স্বামী নিরাময়ানন্দ :-‘আপনাকে রেখে ঠাকুর আগেই চলে গেলেন কেন ?’—এ প্রশ্নের উত্তরে মা একবার ধীরভাবে বলিয়াছিলেন, ‘মাতৃভাব জগতে বিকাশের জন্য এবার আমাকে রেখে গেছেন।’ এই মাতৃভাব উভয়েরই ভাব ; ইহার বিকাশ দু-জনেরই দায়।
শ্রীরামকৃষ্ণ যে-ব্রত প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন, মা প্রতি নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে তাহাই পালন করিতেন। মায়ের এই মাতৃভাব যে কত সুদূরপ্রসারী ছিল তাহা আমাদের কল্পনার অতীত!
ক্বচিৎ কখনো সেবক বা সন্তানের মন সংশয়াক্রান্ত হইলে মা গম্ভীরভাবে আত্মপ্রকাশ করিতেন। একদিন জনৈক অল্পবুদ্ধি সেবক উদ্বোধনে মায়ের ঘরে ঝাঁট দিতে দিতে ভাবিতেছে, ‘এ কার সেবা করছি,কেন করছি ? ইনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বিধবা স্ত্রী বই আর কিছু তো নন!’

পক্ষী যেমন তাহার শাবককে শ্যেনের কবল হইতে রক্ষা করিবার জন্য ছুটিয়া আসে,সহসা মা যেন সেইভাবে আসিলেন এবং সযত্নে তাহার হাত ধরিয়া ও মুখের দিকে তাকাইয়া, নিজের হৃদয় স্পর্শ করিয়া বলিলেন, ‘আমি মা,জগতের মা,সকলের মা—বুঝবি, বুঝবি কালে বুঝবি।’
সেবকটি স্তম্ভিত আনন্দে শুনিল বটে, কিন্ত্ত কিছুদিন পরে মাকে আবার প্রশ্ন করিলেন,’তুমি না হয় আমাদের মা,কিন্ত্ত সকলের মা কি ক’রে ?তুমি কি এই পশু-পাখি ,কীট-পতঙ্গ—এদেরও মা ?’
এবারও মা স্হিরকণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘ওদের মায়ের ভিতর দিয়ে আমি ওদেরও মা ; এ জন্মে ওরা এইভাবেই আমার স্নেহ-যত্ন পেয়েছে। ‘
প্রকৃতপক্ষে দেখা গিয়াছে ,পশু-পাখিরাও মায়ের ভালবাসা বুঝিত।বাড়িতে একটি বিড়াল নানাভাবে বড় উৎপাত করিত।তাহার জন্য সকলেই মাকে দায়ী করে দেখিয়া একদিন তিনি লাঠি লইয়া তাহাকে মারিতে গেলেন ; সেও মায়ের দু’টি পায়ের মধ্যে নিশ্চিন্তে মাথা গুঁজিয়া রহিল। মা লাঠি উঁচাইয়া হাসিমুখে বলিলেন, ‘কি ক’রে মারি বল দেখি—-যেভাবে ও আশ্রয় নিয়েছে!’ সঙ্গিনী ও সেবকেরা হাসিতে হাসিতে বলিল,’তোমাকে আর মারতে হবে না; ও-ও তোমায় বুঝে নিয়েছে।’
“তথ্যসূত্র-সকলের মা”






