ইন্দ্রজিৎ আইচ :- কথায় বলে বানিজ্য বসতে লক্ষী।কে বা কারা বলেন বাংলায় নাকি ব্যাবসা হয় না, বাঙালিরা নাকি বানিজ্য করতে পারে না। আজ বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার এ চিত্রটা পুরোপুরি উল্টো সেটাই আরো একবার প্রমাণিত হলো।
বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদ (বঙ্গীয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাউন্সিল) এর আয়োজনে একদিনের বার্ষিক সভা ও ভিশন কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হলো নিউ টাউন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে।
এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও রাজ্য সরকারের হেরিটেজ কমিশনের প্রধান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি দীর্ঘ ৪০ মিনিট এই বাংলার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত এর ব্যাবসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন ব্যাবসার মূল লক্ষ্য হলো পাঁচটি।
এক শিক্ষা, দুই উদ্যোগ তিন পরিশ্রম, চার সততা, পাঁচ অর্থ।এই দিয়ে আমাদের বঙ্গীয় কৃতি বাঙালিরা এক সময় বিশ্ব জয় করেছেন। যেমন তিনি উদাহরণ দেন আচার্য প্রফু্লচন্দ্র রায় এর বেঙ্গল কেমিক্যাল অথবা জর্জ টেলিগ্রাফ বা মুখরোচক চানাচুর।
বলেন এখন ব্যাবসার ধারা বদলেছে। নতুন টেকনোলজির পাশাপাশি শিক্ষা থেকে সাস্থ্য, বিভিন্ন খাবার থেকে রকমারি পোশাক, আমাদের দৈনন্দিন জিনিসপত্র সব কিছুর ধারণ ও নিয়মকানুন বদলেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাবসার ও রকমফের এসেছে। এটা বাংলায় বাঙালিরাই পেরেছেন। তিনি ব্যাবসার কথা বলতে গিয়ে বিদ্যাসাগর থেকে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে রাজা রামমোহন রায় সেই সময়ের মনীষীদের কথা ও বাণী উল্লেখ্য করেন। তিনি বলেন এই পশ্চিমবঙ্গে এক মাত্র বাঙালি রাই ব্যাবসা করতে জানে, তাদের মান, যশ ও জনপ্রিয়তা সারা বিশ্ব বলবৎ থাকবে। এই আমার বিশ্বাস ও ভরসা।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাতে কে সি দাসের রাজভোগ তুলে দেন কে সি দাসের কর্ণধার ধীমান দাস। মুখরোচক চানাচুর এর প্যাকেট তুলে দেন মুখরোচক এর কর্ণধার প্রণব চন্দ্র। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রধান মেগদুত রায় চৌধুরী তুলে দেন মেমেন্ট।

মঞ্চে এক আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা হাইকোর্টের লিগ্যাল এডভাইজার সৌরভ চুন্দের, এস্ট ইন্ডিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস এর এম ডি দেবর্ষি দত্তগুপ্ত, টেকনো ইন্ডিয়া র মেগদুৎ রায়চৌধুরী ।
এই উপলক্ষে একটি বাণিজ্যিক বই এর কভার উন্মোচন করেন আলাপনবাবু।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বন্ধন ব্যাংক এর প্রধান চন্দ্রশেখর ঘোষ, মহেন্দ্র দত্ত এন্ড সন্স এর প্রধান শুভাশিস দত্ত, জর্জ টেলিগ্রাফ এর প্রধান সুব্রত দত্ত সহ আরো অনেক ব্যাক্তিত্ব।






