Select Language

[gtranslate]
১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২৯শে মার্চ, ২০২৬ )

মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রুটির টান অসংগঠিত শ্রমিক মহলে

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘাতে উড়িষ্যার পুরীর আদলে জগন্নাথ দেবের মন্দির উদ্বোধনে দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত গরিব মানুষের পেটে টান পড়ছে । উৎসবমুখর দিঘায় আলোক ঝলমল রাতের আকাশে যেন হাজার নক্ষত্র খচিত হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে দিঘাকে। নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যান চলাচল। দিনরাত নিরাপত্তার রক্ষী দ্বারা বেষ্টিত ১১৬ বি জাতীয় সড়ক।

 

বেশ কয়েকদিন ধরে দিঘা উপকূলের ছোট ছোট দোকান ,চা, মুড়ি , চপ রাস্তার ধারে বসে থাকা ঝুপড়ি তাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। ডি এস ডি এ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যটক এবং ভিআইপিদের যাওয়ার জন্য রাস্তার ধারে নিশ্চিদ্র করার জন্য দোকানপাট গুলোকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

দিঘা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রামনগর থানা এলাকায় একইভাবে মাইকিং প্রচার করে রাস্তার পাশে থাকা ছোটখাটো দোকানদারদের বিক্রি বাট্টা বন্ধ, কারণ তারা রাস্তার ধারে পর্যটকদের জন্য চায়ের দোকান বা টিফিনের দোকান করে বসে থাকতো সেগুলো সব তুলে দেওয়া হয়েছে।

২৩ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অটো টোটো চালকদের যাতায়াত ।রাস্তাঘাটে যানজট এড়ানোর জন্য তাদের অটো টোটো চালানোর বন্ধ। ৩০ তারিখ পর্যন্ত এই নিষেধ থাকলো। কিন্তু এই প্রায় সাড়ে তিন হাজার দোকান যারা হকারি করে,ফুটপাতে বসে স্থানীয় এবং পর্যটকদের খিদে মেটানোর কাজ করতেন তাদের নিজেদের পেটের রুটি এ কদিন কিভাবে চলবে? সেদিকে প্রশাসনের হেলদোল নেই ।অটো টোটো চালকরা প্রতিদিন যে টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করতো তাদেরও পেটের ভাত মারা হলো।

 

দোকানদার বা অটো টোটো চালক দিঘা এলাকায় পরিবহনের কাজ করতে তারা এখন কর্মহীন। শ্রমিক নেতা আশীষ প্রামানিক ও শ্রমিক নেতা রামচন্দ্র জানা ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন জগন্নাথ ধাম উদ্বোধন হোক কিন্তু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ মানুষের রুটি-রুটিতে হাত দেওয়ার অধিকার প্রশাসনের নেই। তারা দাবি করেন এই কয়েক হাজার দরিদ্র পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব প্রশাসন বা আয়োজকদের নিতে হবে।

Related News

Also Read