বার্ষিক বাজেট সংক্রান্ত সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা–২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতিতে। সভার প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়ে এবং উন্নয়নমূলক কাজে চরম বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সভা বয়কট করলেন বিরোধী বিজেপি সদস্যরা। মঙ্গলবার সভা চলাকালীন মাঝপথেই তাঁরা কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন এবং ব্লক কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন।
বিজেপি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের পক্ষ থেকে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে—
প্রথম অভিযোগ, বার্ষিক বাজেট সংক্রান্ত সাধারণ সভা ডাকার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মানা হয়নি। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি পদ্ধতিতে সভা পরিচালিত হচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁদের।
দ্বিতীয় অভিযোগ, এগরা–২ পঞ্চায়েত সমিতির অধীন বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকাগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ প্রকল্প বণ্টনে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলে দাবি বিজেপির।
সভা ত্যাগের পর বিজেপি সদস্যরা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের বক্তব্য, বার্ষিক বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য যে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন, শাসকদল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
এক প্রতিবাদী সদস্য বলেন “আমাদের এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কোনো তহবিল বরাদ্দ করা হচ্ছে না। অথচ সমস্ত নিয়ম ভেঙে বাজেট সভা চালানো হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদেই আমরা সভা ত্যাগ করেছি।
এই ওয়াকআউটের ফলে বাজেট অধিবেশনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার ধারণ করেছে। শাসক ও বিরোধী দলের টানাপোড়েনে আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে বিজেপির তোলা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এগরা–২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা এগরা–২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার দুয়ারী জানিয়েছেন,“এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা আমাদের দোষারোপ করছে। বিজেপির কাজ শুধু উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করা। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগরা–২ ব্লকের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।





