Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। আত্মজ্ঞান ।।

স্বামী ব্রহ্মানন্দ

১। মানুষ আপনাকে চিনতে পারলে ভগবানকে চিনতে পারে। ‘আমি কে’ ভালরূপ বিচার করলে দেখতে পাওয়া যায়, ‘আমি’ বলে কোন জিনিস নেই। হাত, পা, রক্ত, মাংস ইত্যাদি-এর কোনটা ‘আমি’? যেমন পেঁয়াজের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে কেবল খোসাই বেরোয়, সার কিছু থাকে না, সেইরূপ বিচার করলে ‘আমি’ বলে কিছুই পাইনে! শেষে যা থাকে, তাই আত্মা-চৈতন্য। ‘আমার’ ‘আমিত্ব’ দূর হলে ভগবান দেখা দেন।

২। দুই রকম ‘আমি’ আছে — একটা পাকা ‘আমি’ আর একটা কাঁচা। আমার বাড়ি, আমার ঘর, আমার ছেলে — এগুলো কাঁচা ‘আমি’; আর পাকা ‘আমি’ হচ্ছে — আমি তাঁর দাস, আমি তাঁর সন্তান, আমি সেই নিত্য-মুক্ত-জ্ঞানস্বরূপ।

৩। এক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিলেন, — ”আমার এক কথায় জ্ঞান হয়, এমতো উপদেশ দিন।” তিনি বললেন, — ” ‘ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা’ — এইটি ধারনা করো’।” ইহা বলিয়া চুপ করিয়া রহিলেন।


৪। শরীর থাকতে আমার ‘আমিত্ব’ একেবারে যায় না, একটু-না-একটু থাকেই; যেমন নারিকেল গাছের বালদো খসে যায়, কিন্তু দাগ থাকে। কিন্তু এই সামান্য ‘আমিত্ব’ মুক্ত পুরুষকে আবদ্ধ করতে পারে না।

৫। নেংটা তোতাপুরীকে পরমহংসদেব জিজ্ঞাসা করেছিলেন, — “তোমার যে অবস্থা তাতে রোজ ধ্যান করার আবশ্যক কী?”
তোতাপুরী উত্তরে বলেছিলেন, — “ঘটি যদি রোজ রোজ না মাজা যায়, তা হলে কলঙ্ক পড়ে। নিত্য ধ্যান না করলে চিত্ত অশুদ্ধ হয়।”
পরমহংসদেব উত্তরে বললেন, — “যদি সোনার ঘটি হয়, তা হলে পড়ে না।”
অর্থাৎ সচ্চিদানন্দ লাভ করলে আর সাধনের দরকার নেই।

Related News

Also Read