কেকা মিত্র :- শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্টস্ অ্যাসোসিয়েশনের এর বার্ষিক রাজ্য সম্মেলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন শ্রাবন্তী কলাকেন্দ্রর
প্রধান মন্দিরা রাহা। তিনি পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সঙ্গীত “আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় ধুইয়ে দাও”। প্রদীপ জ্বালিয়ে এই বার্ষিক সভার উদ্বোধন করেন রোটারি ক্লাবের ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর
ডাক্তার অমিতাভ চক্রবর্তী, ডাক্তার কৃষ্ণেন্দু গুপ্ত, বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, অনুষ্ঠানের সভাপতি বরিষ্ঠ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র, সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজাহান সিরাজ, সহ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও অমর নস্কর।
আজ এই সম্মেলনে সেমিনারের বিষয় ছিলো ” ভারতের সংবিধান কি বিপন্ন “। এই বিষয় আলোচনা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন ইন্ডিপেনডেন্ট শব্দটা খুব আপেক্ষিক। একসময় হিকি সাহেব যখন পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন তিনিও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। একজন সাংবাদিককে এখন রাষ্ট্রশক্তি বা শাসক
দলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে খবর করতে গিয়ে চক্ষুশূল হতে হয়
শাসক দলের। আসলে সাংবিধানিক নৈতিকতার সর্ম্পকে আমরা উদাসীন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উধাহরন। তবে আমাদের সংবিধান বিপন্ন নয় বলে কথা বলতে পারছি আমরা। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড বা ডিজিটাল মিডিয়া এখন আন্তর্জাতিক। কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট সাংবাদিক স্নেহাশিস শূর বলেন এখন ডিজিটাল সাংবাদিকতায় অনেক নিয়ম এসেছে কেন্দ্রীয় স্তরে। এমনকি ফৌজদারি আইন তৈরি হয়েছে। বিনা প্রমাণে যাকে তাকে নিয়ে যা খুশি নিউজ করা যাবে না। তার কথা সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন এই সেমিনারে। আজ এই আলোচনায় অংশ নেন প্রাক্তন সাংসদ, সাংবাদিক ও পুবের কলম দৈনিকের সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, সাংবাদিক প্রসূন আচার্য্য , কল্যাণ মৈত্র, রজনী মুখার্জী, সীতারাম আগরওয়াল সহ আরো অনেক সাংবাদিক।
ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্টস্ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজাহান সিরাজ বলেন সরকারের কাছে আমাদের কিছু দাবি আছে। সেই গুলো হলো
১। রাজ্যের প্রতি মহকুমায় আরএনআই স্বীকৃত এবং জেলা তথ্য ও সংস্কৃত দপ্তর অনুমোদিত পাক্ষিক ও সাপ্তাহিকপত্র- পত্রিকাগুলোকে একটি করে এ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অনুমোদন দেওয়া।
২। সাংবাদিকদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আলাদা স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়া হোক।
৩। জেলার অনুমোদিত পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি পুরানো আমলের বিজ্ঞাপনের ‘রেট’ পরিবর্তন করা হোক।
৪। পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের বিজ্ঞাপন স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।
৫। সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে, তাদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।
৬। কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক।
৭। জেলার সাংবাদিকদের সরকারি আবাসন প্রকল্পে ঘর দেওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনগুলিকে আবাসন প্রকল্পে জেলা সদরের সন্নিকটে কো-অপারেটিভ-এর মাধ্যমে জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
৮। সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য জেলার প্রতিটি মহকুমা ও পৌরসভা লাগোয়া একটি করে প্রেস কর্ণারের ব্যবস্থা করা হোক।
৯। সরকারিভাবে জেলার সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করা হোক।
১০। প্রবীণ সাংবাদিকদের মাসিক পেনসন বৃদ্ধি করা হোক।
প্রেস ক্লাবে এই বার্ষিক রাজ্য সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বিবেকানন্দ কলেজ এবং মহেশতলা কলেজের মাস কমিউনিকেশন অফ জার্নালিজমের বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রীরা।






