Select Language

[gtranslate]
২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ রবিবার ( ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ )

ছেলের কাছে ফিরে যেতে চায় না ৭০ বছরের বৃদ্ধ

প্রদীপ কুমার সিংহ

 ছেলের কাছে আর ফিরে যেতে চায় না পিতা। ছেলের অত্যাচারে মা ও বাবা বিষ খেয়ে ছিল। মাকে বাঁচানো যায়নি কিন্তু অবশেষে সুস্থ হয়েছেন ৭০ বছরের সন্ন্যাসী কর্মকার। আত্মীয়দের কাছে ফিরতে চাইলেও একমাত্র ছেলের কাছে ফিরতে চান না তিনি। ছেলের আর তাঁর স্ত্রীর হাতে মারধর আর খেতে চান না তিনি। ভাগ্যের এমনই পরিহাস। আত্মীয়রাও সন্ন্যাসীবাবুর ছেলের ভয়ে মুখ ঘোরাচ্ছেন। তাই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর কাছে ওই বৃদ্ধর দাবি হোমে পাঠানো হোক তাঁকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই দাবি মেনেই হোমে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করছেন। হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ম্যানেজার শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, সন্ন্যাসীবাবু চিঠি দেবেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উনি হোমে ফিরতে চান বলে। তারপরই দ্রুত তাঁকে হোমে পাঠানো হবে। পুলিস প্রশাসনকেও জানানো হবে সব।

ইতিমধ্যেই নিজের সহধর্মিনীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সন্ন্যাসীবাবু। শুধু একটাই তিনি বলছেন হোমে আমাকে পাঠিয়ে বাকি জীবন বাঁচতে দিন।ছেলের কাছে যাবো না।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধ্যায় অভাবের তাড়নায় বারুইপুর স্টেশনে এসে বিষ কিনে খেয়ে নিয়েছিলেন ৭০ বছরের সন্ন্যাসী কর্মকার ও তাঁর স্ত্রী ৬৫ বছরের ঝর্ণা কর্মকার। স্টেশনে অসুস্থ হয়ে পড়লে বারুইপুর জি আর পি তাঁদের বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রাতে মারা যান স্ত্রী ঝর্ণা কর্মকার। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রথমে তিনি তাঁর বাড়ি ডায়মন্ডহারবার বললেও পরে তাঁর এক পরিচিত যুবকের সূত্র ধরে জানা যায় তাঁর বাড়ি গড়িয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর এক ছেলেও আছেন। সে বাইপাসে বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত।গড়িয়ার বাড়িতেই ফ্যান সারানোর কাজ করতেন সন্ন্যাসীবাবু। সেই বাড়ি জোর করে বিক্রি করে দিয়ে মারধর করে সন্ন্যাসীবাবু ও তাঁর স্ত্রী কে বার করে দেয় গুণধর ছেলে ও তাঁর স্ত্রী। টাকা পয়সাও কেড়ে নেওয়া হয়। ওই দম্পতি নবদ্বীপ এ চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ৫ মাস কাটিয়ে পরে অভাবে অবসাদগ্রস্থ হয়ে বারুইপুরে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দম্পতি। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় থেকেই সন্ন্যাসীবাবু কে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁরাই চেষ্টা করে সন্ন্যাসীবাবুর পরিবারে ভাগ্নের খোঁজ পায়। ছেলের নাম জানলেও ছেলে কোথায় থাকে জানেন না সন্ন্যাসীবাবু। ছেলের প্রতি বিতশ্রদ্ধ সন্ন্যাসী কর্মকার এখন তাকিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দিক। কবে হোমে পাঠাবে তাঁরা। হাসপাতালের ভূমিকাকে ধণ্যবাদ জানিয়েছেন সন্ন্যাসীবাবু। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে সাধুবাদ জানান তিনি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে বলে সন্ন্যাসী বাবু হোমে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানায়।

Related News

Also Read