বাংলার মুকুটে গত ১৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য এবং মা-মাটি-মানুষ সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শুরু হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনা এবং সরকারের অভাবনীয় উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা। শনিবার রামনগর বিধানসভা এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই চরণ সার, রামনগর ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুপ কুমার মাইতি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য কল্যাণ জানা, রামনগর ২ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি নীলাভ রায়, স্বপ্ন পট্টনায়ক সহ স্থানীয় অঞ্চলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিরোধীদের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ নেতাদের কণ্ঠে। রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই চরন সার বলেন, “মা-মাটি-মানুষের সরকারের পরিষেবা আজ বাংলার ঘরে ঘরে। মানুষ সব সুবিধা পাচ্ছেন।

কিন্তু বিজেপি উন্নয়নের এই জোয়ার দেখতে পাচ্ছে না। হয়তো ওদের চোখে ছানি পড়েছে। তাই সরকার বিনা পয়সায় চোখের ছানি অপারেশন প্রকল্প চালু করেছে, যাতে ওরা ছানি কাটিয়ে উন্নয়নের আসল রূপ দেখতে পায়।” রামনগর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি অনুপ কুমার মাইতি বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তাই ভয় পেয়ে আইপ্যাকের অফিসে ইডি পাঠিয়ে রেড করাচ্ছে। যত খুশি হামলা বা কেন্দ্রীয় এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া হোক, আগামী দিনে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে।” দলের কর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সরাসরি অভাব-অভিযোগ শুনছেন। গত ১৫ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটেছে, তা লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা নথিভুক্ত করে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

রামনগরের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জানান দিচ্ছে যে, পঞ্চায়েত ও আগামী নির্বাচনের আগে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। উন্নয়নের ডালি নিয়ে মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে এই ‘উন্নয়নের পাঁচালি’, এখন সেটাই দেখার।





