Select Language

[gtranslate]
২রা পৌষ, ১৪৩২ বুধবার ( ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ )

বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর ফর্ম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ 

প্রদীপ কুমার সিংহ

 এস আই আর ফর্ম নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বারুইপুর এলাকায়। বারইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটার লিস্ট নিয়ে কিছু মাস আগে খবরে শিরোনামে ছিল। সেখানে ২৫ টি বুতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার ভোটার ছিল বলে জানা যায়

সেখানে বিভিন্ন জেলা বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের ভোটার লিস্টের নাম ছিল। এই নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্যের রাজনীতি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার চারই নভেম্বর ২০২৫ তারিখ মঙ্গলবার থেকে এস আই আর চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মতবেক অনেক জায়গায় এস আই আর চালু হয়েছিল। কিন্তু বাড়িপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫ টি বুথের মধ্যে ছাত্রী বুথের এস আই আর শুরু হলো রবিবার। এতে করে মানুষ কিছুটা আতঙ্কেই ছিল।

এই দিন পঞ্চায়েতের ২৪ নম্বর ও ২৫ নম্বর বুথের বি এল ও কর্মীরা ফর্ম বিলি করে। ২৪ নম্বর বুথের বি এল ও অসীম কুমার মন্ডল এই বুথে ঈশিতা মন্ডল বি এল ও ছিলেন তার পরিবর্তে আমাকে এপয়েনমেন্ট দেওয়া হয়। আমি শনিবার রাত্রে বুথের এস আই আর ফর্ম তুলি এবং সেগুলোর সঠিক করি রবিবার সকাল থেকে এলাকার মানুষের বাড়িতে গিয়ে এই ফর্ম বিলি করে। বি এল ও সঙ্গে কোন বিএড টু রাজনৈতিক প্রতিনিধি ছিল না। উনি একাই বিলি করেন। সেই সঙ্গে ২৫ নম্বর বুথে ও এক মহিলা বি এল ও নিজেই এস আই আর ফর্ম বিলি করে তার সঙ্গে ও কোন রাজনৈতিক দলের বি এল এ টু কর্মী ছিল না। সাধারণ মানুষের মতে বেশ কিছুদিন এস আই আর চালু হওয়ার পরেও তাদের ফরম যখন না পেয়েছে তখন আতঙ্কে ছিলেন।

পাশাপাশি দুয়ারে সরকারের ধাঁচে SIR ক্যাম্প।আর এই ক্যাম্পে এসআইআর ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। যারা বৈধ নাগরিক তারা ফর্ম নিতে আসছেন। বিএলও রা সেই ফর্ম দিচ্ছেন।আর পুরো ব্যবস্থাটাই দেখভাল করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।আর এই এসআইআর ফর্ম বিলির ক্যাম্প বসেছে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার মল্লিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে।মল্লিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ৬৭ টা বুথ আছে।তার মধ্যে শুধু গণিমা এলাকাতে রয়েছে দশটি বুথ।আর এই দশটি বুথের ভোটারদের জন্যই একটি নির্মীয়মান বহুতলের নিচে বসেছে ক্যাম্প।যেখানে রীতিমতো চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে রয়েছেন BLO রা।আর তার পাশেই রয়েছে তৃণমূলের বুথ লেবেল এজেন্ট বা বিএলএ। আর সেই টেবিলকে ঘিরে রয়েছে মানুষের ভিড়।আর বসে থাকা বিএলও র কাছে পৌঁছতে মানুষের লম্বা লাইন।লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের হাতে রয়েছে ছোট্ট একটা চিরকুট বা স্লিপ। যেখানে লেখা রয়েছে ভোটারের নাম,পার্ট নম্বর আর সিরিয়াল নম্বর।যেখানে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, প্রত্যেক বি এল ও কে ভোটারের বাড়িতে যেতে হবে এবং সেটা একবার নয় তিন তিনবার। সেখানেই বিএলও রা জানিয়েছেন বাড়িতে গিয়ে ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তাই তারা বাধ্য হয়ে একটা নির্দিষ্ট স্থানে বসে এস আই আর ফর্ম বিলি করছেন।তাতে তাদের কাজের সুবিধা যেমন হয়েছে তেমনই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।১০ টি বুথে প্রায় এগারো হাজার ভোটার আছে।আর সেখানে এই কদিনে খুব কম ভোটারের হাতে তারা এসআইআর ফর্ম তুলে দিতে পারা গিয়েছে।তাই বাধ্য হয়ে এক জায়গা থেকে ৬ জন বিএলও এসআইআর ফর্ম বিলি করছেন আর চার জন বিএলও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এস আই আর ফর্ম বিলি করছেন।পঞ্চায়েত তৃণমূল প্রধান হাবিবুর রহমান বৈদ্য জানিয়েছেন,একই পরিবারের পাঁচজন মেম্বারের পাঁচটা বুথে নাম রয়েছে,তাই বাধ্য হয়ে বিএলও রা একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে এস আই আর ফর্ম বিলি করছেন।নাহলে ভোটারদেরকে খুঁজে বার করে তাদের হাতে এসআইআর ফর্ম তুলে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য প্রতিটি ভোটারের হাতে এস আই আর ফর্ম তুলে দেওয়া।তারা সেটাই করছেন।যদিও ক্যাম্প করে এস আই আর ফর্ম বিলি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই ক্যাম্প বন্ধ করে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এস আই আর ফর্ম বিলি করার ব্যবস্থা করুক। রবিবার বেশ কিছু এলাকায় এস আই আর ফর্ম বি এল ও কর্মীরা বিলি করে।

Related News

Also Read