প্রদীপ কুমার সিংহ :- কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেছিল যেখানে মন্ত্রী, সরকারি আধিকারিক, প্রশাসনের আধিকারিক সবাইকে করা ধমক দিয়ে বলেছিল কোথায় যেন কোন জলাভূমি ভরাট হবে না। সরকারি জমি যেন বেদখল না হয়ে যায়। সেইগুলি দেখতে হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই নিয়ে করা ধমক দিয়েছিল সেই বৈঠকে। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
শহর কলকাতা থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে সোনারপুরের খেয়াদহে বেআইনীভাবে অভিনব উপায়ে চলছে জলাভুমি ভরাট ৷ পুর্ব কলকাতার জলাভূমি অংশের মধ্যে পড়ে এই অঞ্চল ৷ এই অঞ্চলের জলাভূমি রক্ষায় রয়েছে বিশেষ আইনও ৷ তারপরেও প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবাধে চলছে জলাভুমি ভরাটের কাজ ৷
কিভাবে হচ্ছে ভরাট – পাইপ লাইনের মাধ্যমে কাদা মিশ্রিত জল সরাসরি জলাভূমিতে যাচ্ছে ৷ এই জল শুকনো হলে সিমেন্টের থেকেও শক্ত হবে ৷ তারপর এইখানে অনায়াসে তৈরি করা যাবে বহুতল ৷ শহর কলকাতায় যেসমস্ত বড় বড় আবাসন তৈরি হচ্ছে সেখানে পাইলিং করার সময় মাটির নীচ থেকে কাদা মিশ্রিত যে জল তোলা হচ্ছে তা ভরা হচ্ছে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম সংস্থার গাড়িতে ৷ সেই গাড়ি অনায়াসে চলে আসছে ঘটনাস্থলে ৷ ১২ বছর ব্যবহারের পর বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম সংস্থার গাড়ি বাতিল হয়ে যায় ৷ সেই গাড়িই লাগানো হচ্ছে এই কাজে ৷ জলাভূমি পর্যন্ত পাইপ পাতায় আছে ৷ অন্যদিকে গাড়ি এলে ট্রাঙ্কারের সাথে পাইপ জুড়ে দিয়ে অনায়াসে চলছে জলাভূমি ভরাট ৷
কারা করছেন এই কাজ – শাসকদলের একাংশ এর সাথে যুক্ত ৷ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার পরিবারের এক সদস্যের মদতে এই কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের ৷ তবে সবার চোখের সামনে এই কাজ হলেও কেউই কিছু প্রকাশ্যে বলতে রাজি নন ৷ এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য প্রতিবাদ করেও কোনও লাভ নেই, এখন চোরের রাজত্ব, সৎ লোকের কোনও দাম নেই, তাছাড়া সত্যি কথা বললে পেটে ভাত জুটবে না ৷
কি বলছে প্রশাসন – জলাভূমি ভরাট অন্যায় ও বেআইনী এমনটাই বলছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা ৷ খেয়াদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন বিষয়টি তার জানা নেই ৷ তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন ৷ এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য রীতা মন্ডল জানান তারও বিষয়টি জানা নেই ৷ তার পরিবারের সদস্যের উপর অভিযোগ উঠলেও তা ভিত্তিহীন বলেই দাবি ৷ যদিও তার দাবি কলকাতা থেকে বড় বড় প্রমোটার এসে এখানে ভরাটের কাজ করছে ৷ তারা নেতৄত্বকে জানিয়েই এই কাজ কাজ করছে ৷ ফলে তাদের কিছু করার নেই বলেই তার বক্তব্য ৷
বিরোধীদের বক্তব্য – বাম নেতা ও সোনারপুরের বাসিন্দা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য এই ঘটনায় সরাসরি শাসকদল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ৷ শাসকদলের নেতাদের মদতে ও পুলিশের সহযোগিতায় এই কাজ চলছে বলে তার অভিযোগ ৷
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেছিলেন কোথাও যেন কোন সরকারি কোনো খালের ধারে বেআইনি দোকান না বসে।
কিন্তু বাড়ির উপরে নয়ানজুলি খালের পাশে বহু দোকান বসে নয়ানজুলি খালের পার ভরাট হয়ে গেছে। এমনই দৃশ্য দেখা গেল বারুইপুর থানার অন্তর্গত বারুইপুর শাসন থেকে বংশী বটতলা পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বেআইনি দোকান খালের পারে করেছে মানুষ। এবং সেইসব দোকানগুলিতে বেশ কয়েকটি দোকানে বারুইপুরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিদ্যুৎ দপ্তর ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা মিলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে মিটার লাগিয়ে দিয়েছে। আবার সেই মিটার থেকে পাশাপাশি দোকানগুলো সব মিটার করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। সেখানকার দোকানের মালিকগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা জোরজবস্তি এই খালের পাড়ে বসেছে। আবার একটি দোকানের মালিক দেবাশীষ প্রামাণিক বলেন তার কাকিমা পঞ্চায়েতের সদস্যা আছেন,সেই কারণেই তিনি এইখানে বেআইনি দোকান করে আছেন। কিছু চা-বিস্কুটের দোকান কিছু ব্যাগের দোকান এবং মোটরসাইকেলের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম দোকানে এবং সেই সঙ্গে কিছু দোকান দোকান করবে বলে বাসের স্ট্রাকচার লাগিয়ে রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন হেলদোল দেখা যাচ্ছে না সেগুলো তোলার ব্যাপারে। বেজার নয়নজলি পারের জমি দখল করে বসে ব্যবসা করছে সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলে এই দোকান থেকে আমাদের সংসার চলে। একটি চায়ের দোকানের মালিক বৃদ্ধা আসালতা দেবী বলেন যে যার মত আমরা দোকান করে নিয়েছি। পঞ্চায়েতে প্রাক্তন প্রদান, ব্লক প্রশাসনকে জানিয়ে আমরা দোকান করেছি।
সেচ দপ্তরে আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে আমরা জানতাম না ব্যাপারটা আমরা দেখছি। শিকড় বালি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বলেন এই দোকানগুলো আমার সময় হয়নি এগুলি অনেকদিন আগে হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে আমরা দেখছি কি ব্যবস্থা করা যায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে এই খালের পারে বেআইনি দোকান বসার জন্য খালের পাড় আলগা হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশন অতিরিক্ত বাস্তুকার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলবেন।






