বিধানসভা নির্বাচন চলতি বছরেই রয়েছে বাংলায়। আর তা নিয়ে আইপ্যাক তৈরি করেছিল স্ট্র্যাটেজি। বিধানসভা নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল তালিকা। আর এই সমস্ত নথি ছিল আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে।
সেখানেই বৃহস্পতিবার হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তরুণ মাইতি।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এই নথিগুলি ইডি হাতাতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠছে। কারণ এসআইআর করে যে ফল লাভ করার কথা ভেবেছিল বিজেপি সেটা হচ্ছে না বলে বুঝতে পেরেছে পদ্মপার্টি। তাই কৌশলে ইডিকে পাঠিয়ে তা হস্তগত করতে চেয়েছিল ইডি বলেই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদও বিধায়ক মুখ খুলেছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এগরার বিধায়ক তরুণ মাইতি’র দাবি, ‘ভয় দেখানো, ধমকানো এবং বাহুবল দেখানো’ এদের কাজ বিজেপির হয়ে। একইসঙ্গে অমিত শাহের উদ্দেশে বিধায়ক তথা কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তরুণের দাবি, ‘এর ফল ভুগতে হবে।’

অন্যদিকে আজকের এই ইডি হানা নিয়ে এগরার কুদিতে ধিক্কার মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বিধায়ক তরুণ মাইতির ক্ষোভে বলেন, ‘বিজেপির ভয় দেখানোও, ধমকানোর শাখা হয়েছে ইডি। ২০২৬ সালের বাংলার জন্য শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলগত নথি, প্রার্থী তালিকা ইত্যাদি অবৈধভাবে অ্যাক্সেস পেতে পরামর্শদাতাদের উপর অভিযান চালাচ্ছে। আমরা আপনার সঙ্গে লড়াই করব এবং অমিত শাহকে হারিয়ে জিতব। আপনাকে এর জন্য ফল ভুগতে হবে।’
এছাড়াও এগরা ১ ব্লক তৃণমূল সহ-সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য শান্তনু নায়ক জানিয়েছেন, বাংলাকে নিয়ে মোদি-শাহের নোংরা কৌশল এবার এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আজ সকালে তাঁরা তাঁদের কোলের কুকুর এজেন্সি ইডিকে আমাদের ভোটপ্রচারের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা, আমাদের ভোট কৌশলের বিস্তারিত তথ্য ও নথি চুরি করতে পাঠিয়েছিল। গুজরাত জিমখানার এই দুই খিলাড়ি যদি ভেবে থাকেন যে, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করবেন, তাহলে তাঁরা বিরাট ভুল করছেন। মোদি-শাহের পতনের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনারা শুরু করেছেন এবং এখন আমরা এটা শেষ করে দেব। আবার জিতবে বাংলা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অফ ইন্ডিয়া এখন নিজেকে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের ইলেকশন ডিপার্টমেন্টে পরিণত করে দিয়েছে। আসলে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের চেয়েও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আরও খারাপ ফল করবে। এদিনের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন এগরা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমিয় কুমার রাজ, দলের ব্লক তৃণমূল সভাপতি সত্য চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সদস্য চন্দ্রকান্ত মাইতি, বীরেন মাইতি, অশোক দাস, রবীন্দ্রনাথ দাস, শান্তনু মাইতি ও বিশ্বজিৎ বেরা প্রমুখ।





