Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

কাজলা জনকল্যাণ সমিতির পরিচালনায় হচ্ছে শিশু মেলা

অ্যাকশন এইড কর্ণাটক প্রোজেক্টস-এর উদ্যোগে ১৯ এবং ২০ ডিসেম্বর কাজলা জনকল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গনে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত হল।

প্রথম দিন ১৯ ডিসেম্বর শুরুতে শিশুদের এবং অতিথিদের বরণ করা হয়। উদ্বোধনী ভাষণ দেন কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন পণ্ডা। তিনি ১৪ নভেম্বর শিশু দিবস এবং ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। মালালা ইউসুফের সংগ্রামের কাহিনী বলে শিশুদের কাছে প্রশ্ন করেন আমরা কী কী করতে পারি। আমাদের প্রতিবেশী শিশুরা কেমন আছে তার খোঁজ কি আমরা নেই? শিশুদের যা প্রয়োজন তারা কি তা পায়? আমরা এই দু’দিনের এই আলোচনার পর আমাদের কী করণীয় এবং আমরা নিজেরা কী করতে পারি সে বিষয়ে যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি।

এরপর কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সহ-অধিকর্তা সন্দীপ দে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত দু’টি তথ্যচিত্র দেখিয়ে শিশুদের কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিশুদের ভাবনাগুলি আলোচনার মাধ্যমে জানতে চান। খেলার মাধ্যমে তিনি পরিবেশের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। উপস্থিত শিশুদের লাল, নীল, সবুজ এবং হলুদ এই চারটি দলে ভাগ করে নেওয়া হয়। এরপর শিশুদের দলগত আলোচনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ও লিঙ্গ সমতা বিষয়ে ধারণা তৈরি করা হয়। শিশুরা নিজেরাই দলগত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা, কারণ নির্ধারণ এবং কী করণীয় সে বিষয়ে তাঁদের মতামতগুলি লিপিবদ্ধ করে। কর্মশালা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কাজলা জনকল্যাণ সমিতির পক্ষে জয়ন্ত পণ্ডা, কমল দাস এবং লীনা দে। প্রথম দিন এই আলোচনায় ৪০জন শিশু অংশগ্রহণ করে।

 

দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২০ ডিসেম্বর মেলার মাঠে অংশগ্রহণকারী শতাধিক শিশুকে এবং অতিথিদের বরণ করা হয়। কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রথমে গতদিনের আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গ সমতার বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলির কথা বলেন। তিনি একজন অধ্যাপক এবং সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গের গল্প দিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং নিজের জীবন ও পরিবার থেকে কীভাবে কাজ শুরু করা যায় সে বিষয়ে সকলকে ভাবার কথা বলেন।

 

কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সহ-অধিকর্তা সন্দীপ দে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে সমাজের তৈরি করা বৈষম্যমূলক ভাবনাগুলিকে শিশুদের দ্বারা চিহ্নিত করার মাধ্যমে সমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশুরা দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অভিনয় করে দেখান। অ্যাকশন এইড কর্ণাটক প্রোজেক্টস-এর প্রতিনিধি সুব্রত কর খেলার মাধ্যমে শিশুরা যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয় তা শিশুদের কাছ থেকেই শোনার ব্যবস্থা করেন। কীভাবে গ্রামে ফিরে গিয়ে একটি একটি করে সমস্যার সমাধান করতে পারে সেই বিষয়ে মতামত দেন। শিশুরা গত দিন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও ফলাফল নিয়ে যে আলোচনা ও সমাধানে যে সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করেছিল তা আজ উপস্থিত সকল শিশুর কাছে তুলে ধরে। সমস্যাগুলি সমাধান করতে নিজেদের করণীয় বিষয়গুলি পালন করতে সকলে শপথ গ্রহণ করে।

করণীয় বিষয়গুলির তালিকায় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, কীটনাশক সারের ব্যবহার কমানো, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, জল অপচয় কমানো, সচেতনতা প্রসারে র‍্যালী এবং মাইকিং করা, সাইকেলের ব্যবহার (দূষণ কম হয়, এমন যান ব্যবহার),খাদ্যাভাসের পরিবর্তন, কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক জিনিসের ব্যবহার, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সব ইলেকট্রিক সুইচ বন্ধ করা, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা, কাগজের ঠোঙ্গা ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, গাছ কাটা বন্ধ করা, গাছ লাগানো, নারী-পুরুষে বৈষম্য না করা, সকলকে সমান চোখে দেখা। শিশুরা বেশ কিছু স্লোগান তৈরি করেছে সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে। উপস্থিত সকলের কাছে সেই স্লোগানগুলি পাঠ করে শোনানো হয়।

 

শিশুরা মিলে শিশুদের একটি মঞ্চ গড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মঞ্চের নাম দেওয়া হয়- “ভবিষ্যতের দিশা”। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রতিমাসের শেষ রবিবার ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে মিটিং হবে। প্রতিটি শিশু দল থেকে ২জন করে প্রতিনিধি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হবে। প্রতি ৩মাসে একবার আবাসিক মিটিং হবে। আলোচনার মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশুরা অংশগ্রহণ করে। সঙ্গীত পরিবেশন করে পল্লবী গিরি। আবৃত্তি পরিবেশন করে মহুয়া পাল এবং সায়ন্তিকা পয়রা। নৃত্য পরিবেশন করে সুপর্ণা পাত্র। ক্যারাটে প্রদর্শন করে রিয়া মন্ডল। মেলায় শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। সমাপ্তি ভাষণে কাজলা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সকল শিশুকে নিজের বাইরে সমাজের জন্য ভাবনার কথা বলেন। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সমগ্র মেলা পরিচালনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন লীনা দে এবং জয়ন্ত পণ্ডা।

Related News

Also Read