Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। ঠাকুরের ভোগগ্রহণ ।।

সন্দীপ শ্রীবাস্তব :- ঠাকুরকে ভোগনিবেদনের পর মা দেখিতেন ঠাকুর সত্য সত্যই উহা গ্রহন করিতেছেন। ১৩১৮ সালে ডাক্তার লালবিহারী সেন যখন জয়রামবাটী গিয়েছিলেন, তখন তাঁহার অসুখ হয়। সে সময় মা তাঁহাকে একটু খিচুড়ি খাইতে দিয়া বলেন যে, উহা খাইলে অপকার হইবে না; কারন ঠাকুর স্বয়ং খাইয়াছেন।


ডাক্তার প্রশ্ন করিলেন, ঠাকুরকে কি দেখতে পাওয়া যায়? মা উত্তর দিলেন , হ্যাঁ, আজকাল মাঝে মাঝে এসে খিচুড়ি আর ছানা খেতে চান।

” একজন জগদম্বা আশ্রমে খেদ করিয়া শ্রীমাকে বলেন যে, ভোগ নিবেদন করিলেও ঠাকুর উহা গ্রহন করেন কিনা কিছুই বুঝতে পারা যায় না। তখন শ্রীমা বেশ জোর দিয়া বলিলেন, ” খান বই কি, বাবা প্রানের ভিতর থেকে নিবেদন করলে নিশ্চয়ই খান।


তিনি আরও বলিলেন যে, গোপালকেও খাইবার জন্য আদর করিয়া ডাকিলে গোপাল নূপুর পায়ে ঝুম- ঝুম করিয়া আসিয়া হাজির হয়, আর আবদার করিয়া খায়। জনৈক স্ত্রীভক্ত এক দুপুরে ( কার্তিক, ১৩২১) ঠাকুর – ঘরে ঢুকিয়া দেখেন শ্রীমা সলজ্জ বধূটির মতো ঠাকুরকে ডাকিয়া বলিতেছেন, ” এস, খেতে এস। ” আবার গোপাল – বিগ্রহের কাছে গিয়া বলিতেছেন, ” এস, গোপাল, খেতে এস। ” হঠাৎ স্ত্রীভক্তের প্রতি দৃষ্টি পড়িতেই মা হাসিয়া বলিলেন, ” সকলকে খেতে ডেকে নিয়ে যাচ্ছি। ” এই বলিয়া মা ভোগের ঘরের দিকে চলিলে মায়ের ভাব দেখিয়া স্ত্রীভক্তের ” মনে হলো যেন সব ঠাকুররা তাঁর পেছনে চলেছেন।


বস্তুত ঠাকুরের ফটোত তিনি সাক্ষাৎ ঠাকুরের দর্শন পাইতেন ; এমন কি নিদ্রাকালেও ঐ বোধ অব্যাহত থাকিত। জয়রামবাটীতে একদিন দুপুরে অপরে পুজা করিয়াছেন। মা আহারান্তে বিশ্রাম করিতেছেন।

আকস্মাৎ তিনি স্বপ্নে দেখেন ঠাকুর মেজেতে রহিয়াছেন, আর তিনি জিজ্ঞেসা করিতেছেন, ” তুমি এখানে কেন শুয়ে? ” সঙ্গে সঙ্গে নিদ্রা ভাঙিয়া যাওয়ায় তাড়াতাড়ি উঠিয়া ঠাকুরের সিংহাসনের দিকে তাকাইয়া শ্রীমা দেখেন যে, পুজিত ফুলগুলি ফটোর গায়ে লাগিয়া রহিয়াছে এবং উহাতে পিঁপড়ে ধরিয়া ঠাকুরের দেহে বেড়াইতেছে। তিনি উঠিয়া ফুল সারাইয়া দিলেন এবং পুজককে এবং ভবিষ্যতে জন্য সাবধান করিয়া দিলেন।

Related News

Also Read