Select Language

[gtranslate]
৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বুধবার ( ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ )

দেবী পক্ষের সূচনা অনুষ্ঠানেও মমতাকে আক্রমন শুভেন্দুর

মহালয়ার ভোরে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কাঁথি শহর। শহরের পোস্ট অফিসের সামনে সহস্র শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা করল চৌরঙ্গী রিক্রিয়েশন ক্লাব। এ বছর ২৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল এই ক্লাবের দুর্গাপুজো। ভোর থেকেই আধ্যাত্মিক আবহে জমে ওঠে অনুষ্ঠান, শঙ্খধ্বনির পবিত্রতায় ভরে ওঠে চারদিক। কিন্তু এই ধর্মীয় আবহেই হঠাৎ রাজনীতির ঝড়ে গরম হয়ে ওঠে মঞ্চ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মহালয়ার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “আজ সহস্র শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হলো।” তবে বক্তব্যের সুর দ্রুত পাল্টে গিয়ে শাসক দলের দিকে আঙুল তোলেন তিনি। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “পিতৃপক্ষে হিজাব পরে যাঁরা দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করেন, তাঁরা আসল হিন্দু নন। তাঁরা চাইছেন হিন্দু সমাজে বিভেদ তৈরি করতে। কোথাও বিহারী-বাঙালি বলে, কোথাও আবার পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি বলে মানুষকে আলাদা করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই কৌশল কোনোদিন সফল হবে না।”

এছাড়াও মণ্ডপে এসআইআর নিয়ে গানবাজানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা প্রকৃত হিন্দু, তাঁরা ঐসব গান বাজান না।”

 

শুভেন্দুর বক্তব্যের পরেই পাল্টা তোপ দাগেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও পটাশপুরের তৃণমূল বিধায়ক উত্তম বারিক। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী রাতে কী বলেন সকালে মনে থাকে না, দিনে কী বলেন সন্ধ্যায় মনে থাকে না। তিনি হলেন আসল লোডশেডিং নেতা। কোর্টে তাঁর মামলা চলছে। লাইট নিভিয়ে নন্দীগ্রামে তিনি ভোটে জিতেছেন।”

এখানেই থেমে না থেকে আরও একধাপ এগিয়ে তিনি যোগ করেন, “যে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি পাগল বলেন, তিনি নিজেই আরও বড় পাগল।”

ফলে মহালয়ার ভোরে যেখানে শঙ্খধ্বনিতে ভেসে ওঠার কথা ছিল শুধুই ভক্তিময় পরিবেশ, সেখানে রাজনৈতিক কটাক্ষ-প্রতিউত্তরে জমে ওঠে অন্যরকম উত্তাপ। কাঁথির দুর্গাপুজোর ২৮তম বর্ষে পদার্পণের দিনটি তাই ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজার মঞ্চ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে রইল।

Related News

Also Read