Select Language

[gtranslate]
২রা পৌষ, ১৪৩২ বুধবার ( ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ )

৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পঁচেটগড় রাজবাড়ির রাস উৎসব

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থানার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী পঁচেটগড় রাজবাড়ি এখন উৎসবের রঙে রঙিন। শুরু হয়েছে প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক রাস উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে মেতে উঠেছে রাজবাড়ি চত্বর থেকে শুরু করে গোটা এলাকা। রাজবাড়ির কুলদেবতা কিশোররাই জিউ ও অন্যান্য বিগ্রহের শোভাযাত্রা দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটক।

রাজপরিবারের বর্তমান বংশধরদের মতে, রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ওডিশার কটক জেলার আটঘর গ্রামের কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র। তিনি ছিলেন আকবর বাদশাহের রাজকর্মচারী এবং ওডিশার রাজা মুকুন্দদেবের সহযোগী। গৌড়ের রাজা সুলেমান কররানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের পর বাদশাহের কাছ থেকে পুরস্কার হিসেবে তিনি পটাশপুর পরগনায় ভূমি পান ও সেখানেই জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তিনি নির্মাণ করেন পঁচেটগড় রাজবাড়ি ও পঞ্চেশ্বর মন্দির।

শ্রীচৈতন্যদেব যখন পুরীর পথে পঁচেটগড় পরগনা অতিক্রম করেন, তখন রাজপরিবার শৈব ধর্ম থেকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেয়। এরপর থেকেই কিশোররাই জিউকে কুলদেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময় থেকেই শুরু হয় এই রাজবাড়ির রাস উৎসব, যা আজও একই ঐতিহ্যে পালন হয়ে আসছে।

রাস উৎসব উপলক্ষে রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বসেছে বিশাল মেলা। প্রতিদিন চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা, সার্কাস, টোরাটোরা, ট্রয় ট্রেন ও নানা প্রসাধন সামগ্রীর দোকান। উৎসব চলবে আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত।

রাস উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো প্রতিদিন সন্ধ্যায় কিশোররাই জিউ ও কুড়িজন বিগ্রহের শোভাযাত্রা। রাজবাড়ি থেকে শুরু করে রাসমঞ্চ পর্যন্ত চলে এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রা। রাতের দিকে দেবতারা পুনরায় ফিরে আসেন রাজবাড়ির মূল মন্দিরে।

 

এবারের রাস উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ‘দধি উৎসব’, যা অনুষ্ঠিত হবে ৯ই নভেম্বর। সেদিন ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজবাড়ির কুলদেবতা কিশোররাই জিউ ও সমস্ত বিগ্রহ রাসমঞ্চে অবস্থান করবেন।

 

রাজবাড়িকে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাজবাড়ির ভেতরে হোমস্টে সুবিধা থাকায় বিদেশি পর্যটকরাও প্রতিবছর এখানে ভিড় জমান। দর্শনার্থীদের জন্য রাজবাড়ির সংগ্রহশালাও খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল। যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চলছে। পুরো মেলাচত্বরে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

 

রাজবাড়ির এক সদস্য বলেন, “এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক। পাঁচশো বছর ধরে আমরা এই উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি।”

Related News

Also Read