পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হলো ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ। এদিন সকাল ১০টা থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন কর্মহীন যুবক-যুবতীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনকে।

‘স্বনির্ভর বাংলা শিবির’-এ বিশেষ উদ্যোগ
এদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি ব্লক ও পুরসভার পরিচালনায় শুরু হয়েছে ‘স্বনির্ভর বাংলা শিবির’। এগরা-২ নম্বর ব্লকের এই শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্লকের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রাজকুমার দুয়ারী। উদ্বোধন শেষে তিনি প্রকল্পের খুঁটিনাটি ও যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন এগরা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাহনাজ বেগম, অর্ধেন্দু সিংহ, সুদীপ জিৎ, সুধাকান্ত বারিক, আইজাদ হোসেন, নিধুরাম গিরি, দিলীপ বর, বিমল জানা প্রমুখ।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় আসতে গেলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
বয়সসীমা: ১লা এপ্রিল ২০২৬ তারিখের হিসেবে আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে।
অযোগ্যতা: সরকারি বা স্থায়ী চাকুরিজীবীরা এই আবেদন করতে পারবেন না।
আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ: যারা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই বয়সের মধ্যে হলেও যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আবেদন পদ্ধতি
বর্তমানে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অফলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্লকের কর্মাধ্যক্ষ রাজকুমার দুয়ারী জানান, আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত নথিগুলি সঙ্গে আনতে হবে:
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট।
আধার কার্ড ও ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ফটো।
সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রয়োজনে এসসি (SC) বা এসটি (ST) সার্টিফিকেট।
আবেদনপত্রটি অবশ্যই ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।
সরাসরি অনলাইন আপলোড ও মাসিক ভাতা
শিবিরগুলিতে ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভেরিফিকেশন বা যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুত তা নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১লা এপ্রিল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক দেড় হাজার টাকা করে অনুদান আসা শুরু হবে।





