Select Language

[gtranslate]
১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ মঙ্গলবার ( ৩১শে মার্চ, ২০২৬ )

।। সূচিন্দ্রম শক্তিপীঠ ।।

বাপি সরকার

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গম স্থলে কন্যাকুমারীর জেলার সূচিন্দ্রমে অবস্থিত মা নারায়ণী মন্দির ।

এইস্থানটিকে ” সূচিন্দ্রম শক্তিপীঠ” ও বলা হয় ।


এই স্থানে মায়ের ” উপর পাটির দন্ত ” ( দাঁত ) পতিত হয়েছিল । এখানে মাকে নারায়ণী ও ভগবান শিবকে সংঘরোর সংহার নামে পুজিত হন ।


সুচিন্দ্রমের মূখ্য কথা শক্তিপীঠ নির্মাণ থেকে সম্বন্ধ আছে । পৌরাণিক কথা অনুসারে, অসুর বংশের ছেলে ঘামাঅসুর ঘোর তপস্যা করে বাবা শিবের থেকে অনন্ত জীবন বরদান চায় ।

ভগবান ” শিব ” প্রসন্ন হবার পর , এক সর্তে ভগবান বলে, কন্যাকুমারী ছেড়ে সব জায়গাতেই বিজয় হবে ।

ভগবান ” শিবের ” থেকে বরদান পেয়ে ঘামাঅসুর হিংস্র হয়ে ওঠে ও দেবতাদেরও পরাস্ত করতে থাকে । এই কারণে সব দেবতারা ভগবান ” বিষ্ণুর ” কাছে যান এবং ওনার মার্গদর্শন পেয়ে এক মহাযজ্ঞ আরম্ভ করলেন । তখন মহাযজ্ঞ থেকে “

ভগবতী দূর্গা ” প্রকট হয় । দেবতাদের কথা শুনে দেবী ” দুর্গা ” ঘামাঅসুরকে বধ করে ।


ঐতিহাসিক দন্ত কথা অনুসারে, সব দেবতার রাজা ভগবান ” ইন্দ্র ” দেবকে কোনো এক কারণে মহর্ষি গৌতম অভিশাপ দিয়েছিলেন ।” ইন্দ্র “দেব এই সুচিন্দ্রম পীঠস্থানে এসে নিজেকে অভিশাপ মুক্ত করেন ।


৭ তলা মন্দিরের সাদা ” গোপুরম ” ( গম্বুজ ) বহু দূর থেকে দেখা যায় । ১৭ শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দির নিজের দরজার উপর আশ্চর্য নকশা দিয়ে ভরা আর মন্দির পরিসরে আরও বিভিন্ন দেব দেবীর প্রায় ৩০ টা মন্দির আছে এবং মন্দিরের প্রবেশ দুয়ার ২৪ ফুট উচু । মন্দিরের উত্তর – পূর্ব কোনে এক বিশালকায় ” হনুমানজী ” মূর্তি স্থাপন করা আছে ।


বৈষ্ণব ( লক্ষী নারায়ণ সেবাইত ) ও শেব ( শিব সেবাইত ) সম্প্রদায়ের ভক্ত এই পীঠস্থানে আসেন এবং মায়ের আশীর্বাদ পান । মন্দিরে বিশাল লিঙ্গম ( শিবলিঙ্গ ) আছে ।


ভগবান ব্রহ্মা , ভগবান বিষ্ণু , ভগবান শিব মূল মন্দিরে এমন রূপে নিবাস করেন, তাহাদেরকে “এস্থেনুমলায়াম” বলা হয় , যা নিজে একই রূপে ৩ দেবতাকে প্রতিনিধিত্ব করে ।” এস্থেনু ” ভগবান শিব দর্শিত করে , ” মল ” ভগবান বিষ্ণু দেখিয়ে দেন , ” অয়ান ” ভগবান ব্রহ্মা প্রতিনিধিত্ব করে ।




মন্দিরের মধ্যে নারায়ণী মায়ের সুন্দর এক প্রভাবশালী মূর্তি আছে । ওনার হাতে একটি মালা আছেন ।


নবরাত্রি , শিবরাত্রি , অশোকাষ্টোমী , দূর্গাপুজো , চৈত্র পূর্ণিমা , আষার ও আশ্বিন অমাবস্যা , মেষ সংক্রান্তি ও মিথুন সংক্রান্তি তে পূজো হয় । এছাড়াও দুটি উৎসব বিশেষ ভাবে ধুমধাম করে পালন করা হয় । রথযাত্রা ও সুচিন্দ্রম মার্গজী উৎসব ।


কন্যাকুমারীতে স্নান করলে সব পাপ মুক্ত হয় এটা কথিত আছে ।

Related News

Also Read