ইন্দ্রজিৎ আইচ
ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (TAAB)-এর পরিচালন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অবসান ঘটেছে। কলকাতা হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের পর বিপুল সমর্থনে নতুন পরিচালন কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। সেই উপলক্ষে
আজ মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে
ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি অমিতাভ সরকার জানালেন
TAAB-এর বিদ্যমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুযায়ী ২৫শে অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত ৮৯ জন সদস্যের সর্বসম্মত সমর্থনে কমিটি গঠিত হলেও, পরবর্তীতে কিছু সদস্যের আপত্তির ভিত্তিতে বিষয়টি কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে একটি দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ১২ই নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাননীয় সিটি সিভিল কোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে, যার ফলে মনোনীত কমিটির সদস্যদের সংগঠনের পদাধিকারী হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
এরপর প্রতিরক্ষাকারী কমিটি কলকাতা হাইকোর্টে ভারতীয় সংবিধানের ২২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ
করে। পাশাপাশি সিটি সিভিল কোর্টেও আবেদন জানিয়ে বলা হয় যে, ৮৯ জন সদস্যের সমর্থনে মনোনীত একটি কমিটির বিরুদ্ধে মাত্র দুই সদস্যের আপত্তির ভিত্তিতে মামলা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাদী পক্ষের দুই সদস্য ছাড়া সংগঠনের আর কোনো সদস্য ওই মামলাকে সমর্থন করেননি।
এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের ফলে সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে এবং
TAAB-এর স্বাভাবিক উদ্দেশ্যপূরণও ব্যাহত হয়।
মাননীয় কলকাতা হাইকোর্ট বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে TAAB-এর ১৭টি পরিচালন পদে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য দুইজন জয়েন্ট স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেন।
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিশ্বব্রত বসুমল্লিক এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট ঋতজু ঘোষালকে জয়েন্ট স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে এবং ১০ই মে, ২০২৬-এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা পূর্বতন কমিটিকে নির্বাচন পরিচালনায় জয়েন্ট স্পেশাল অফিসারদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে বলা হয়।
জয়েন্ট স্পেশাল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে এবং পূর্বতন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতায় বৈধ ভোটার তালিকা প্রস্তুত, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই সহ একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করা হয়।
মোট ১৭টি পদের মধ্যে ১২টি পদে একক মনোনয়ন জমা পড়ায় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি ৫টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পদগুলি হল সভাপতি, সহ-সভাপতি (দক্ষিণ), সাধারণ সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ।
৯ই মে, ২০২৬ তারিখে জয়েন্ট স্পেশাল অফিসারদের অনুমোদিত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যোগ্য ভোটারদের প্রায় ৭৯ শতাংশ সদস্য স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। একই দিনে জয়েন্ট স্পেশাল অফিসাররা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন এবং উল্লিখিত পাঁচটি পদের নির্বাচিত পদাধিকারীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং আদালত নিযুক্ত জয়েন্ট স্পেশাল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে TAAB-এর নতুন পরিচালন সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটি ১০ই মে, ২০২৬ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে এবং আগামী দুই বছর সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এই বিষয়ে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস বলেন
কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটিই ভবিষ্যতে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সদস্যদের বৃহত্তর স্বার্থে সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবে।
আদালতের নির্দেশে নির্বাচন আয়োজন TAAB-এর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও পরিচালন সংকটের একটি ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক সমাধান সম্ভব হয়েছে।
এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যেখানে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ একটি গণমুখী সংগঠনের পরিচালন সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে এবং সংগঠনের সদস্যদের কাছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সংস্থার কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন সাহা
সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন
নবনির্বাচিত কমিটি সংগঠনের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে নিম্নলিখিত ১০টি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে:
১. ক্যাশলেস ট্রানজ্যাকশন সিস্টেম চালু করা
২. সদস্যদের জন্য কার্যকর স্মার্ট ডিজিটাল ওয়েবসাইট তৈরি
৩. আরও বৃহৎ ও উন্নত “Connect Bengal” আয়োজন
৪. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক FAM Trip আয়োজন
৫. দেশ ও বিদেশে কৌশলগত Road Show পরিচালনা
৬. সরকারি স্বীকৃতি ও Affiliation প্রাপ্তিতে সহায়তা
৭. সদস্যদের জন্য ডিজিটাল Membership ID Card চালু
৮. আধুনিক ও গতিশীল Membership Directory তৈরি
৯. প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক Workshop আয়োজন
১০. সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও স্কিমে সরাসরি সদস্য সংযোগ নিশ্চিত করা
আমাদের মূলমন্ত্র হলো
“উৎপাদনশীল কাজ, উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল পরিষেবা”





