Select Language

[gtranslate]
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২২শে মার্চ, ২০২৬ )

রঘুসর্দারবাড় জালপাই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা

 

কাঁথি ১ ব্লকের নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের জাতীয় সেবা প্রকল্প ইউনিট কর্তৃক দত্তক নেওয়া রঘুসর্দারবাড় জালপাই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ৬০ জন শিক্ষার্থী যারা এতদিন মাটিতে পাতা ত্রিপলের উপর বসে পডাশুনা করতো তাদের বসবার জন্য হাইবেঞ্চ ও সিট বেঞ্চ , তৈরি হল। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা দান করেছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন কলেজ সমূহের পরিদর্শক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার ডঃ সন্তোষ কুমার ঘোড়াই।

প্রসঙ্গত এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সরকারিভাবে নিযুক্ত সহায়িকার অবসর গ্রহনের পর।

সেই খবর পৌঁছায় নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই এর নিকট। তিনি জানতে পারেন ক্ষুদে শিশুরা প্রায় ৬০/৬৫ জন পডাশুনা থেকে বঞ্চিত ! তারা সকালে মায়েদের সাথে সমুদ্রে ঝিনুক কুড়াতে যায় দুপুরের রোদে আম কুডিয়ে খায়। পডাশুনা থেকে দূরে চলে যাওয়ার উপক্রম উপকূলের এই মৎস্যজীবীপ্রথম প্রজন্মের পডুয়াদের। শোনা মাত্রই তৎকালীন কাঁথি-১ বিডিও তুহিন কান্তি ঘোষ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বসন্তবাবু।

তৎকালীন জেলা শাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজীর অনুমতিক্রমে বিডিও র নির্দেশে বিদ্যালয়টি দত্তক নেন নয়াপুট হাইস্কুল। সেইমতো ২০২৩ সালের মে মাস থেকে দু জন সেচ্ছাসেবক স্নাতক শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে চলেছেন শিশুদের। বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তি ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের পাশে এসে দাঁডিয়েছেন ॥

কিছুদিন আগেই ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়ই নয়াপুট হাইস্কুলে “ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার “ বিষয়ে সেমিনার করতে এলে প্রধান শিক্ষক উনাকে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিতে একবার যাওয়ার অনুরোধ করেন ॥ সেইমতো তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন ভাঙাচোরা একটি শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুরা মাটিতে ত্রিপলে বসে পডাশুনা করছে ! বিস্মিত হন এবং সেই সূত্রে উনার সুযোগ্য পুত্র বর্তমান প ব উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উপসচিব শৌভিক ঘোড়ই মারফত ৫০ হাজার টাকার চেক পাঠিয়ে দেন ও আজ তা তুলে দেন তিনি বসন্ত বাবুর হাতে।
এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিশুদের বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী , চেয়ার , টেবিল,ডাস্টবিন কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা দান করেন কাঁথির বিশিষ্ট শিক্ষাদরদী শুভ্রাংশু চক্রবর্তী , শিশুপাঠ্য গল্পের বই সহ বইগুলি রাখবার আলমারি কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন বেলুড বিদ্যামন্দিরের বাংলা বিভাগের প্রধান ও গৌরী কালচার এন্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাশোশিয়েশানের সম্পাদক ড. দীপঙ্কর মল্লিক , শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মিনি সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করেছেন কাঁথি চন্দ্রামনি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্না রানী মন্ডল।

আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষে প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জি ও আশুতোষ কলেজের অধ্যাপিকা ড. বিদিশা মৈত্র। জাতীয় সেবা প্রকল্পের বিশেষ শিবির পরিদর্শনে এসে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ৬০ জন শিশুর হাতে তাঁরা ৬০ টি স্কুল ব্যাগ ও পানীয় জলের বোতল তুলে দেন।উপস্থিত ছিলেন মায়াপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়াই। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -এন এস এস এর প্রোগ্রাম অফিসার অঙ্কুরময় জানা ও শিক্ষক সৈকত পন্ডা।

Related News

Also Read