Select Language

[gtranslate]
২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ শনিবার ( ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ )

মণিপাল হসপিটালস চালু করল মাল্টিডিসিপ্লিনারি লিভার ও জিআই ইনস্টিটিউট

ইন্দ্রজিৎ আইচ

পূর্ব ভারতে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে, মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস তাদের ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ ডিসঅর্ডার্স অ্যান্ড লিভার কেয়ার সেন্টার চালু করেছে। উন্নত গ্যাস্ট্রো ও লিভার কেয়ারের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এই ইনস্টিটিউট অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, বিশেষজ্ঞ-নেতৃত্বাধীন মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা-সহ জটিল চিকিৎসা একত্রে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে প্রদান করবে। রোগীকেন্দ্রিক নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার উপর জোর দিয়ে, এই কেন্দ্রটি লিভার ও পাচনতন্ত্রের রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন ডা. সুমন্ত দে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – রোবোটিক, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস; ডা. জয়ন্ত রেড্ডি, লিড কনসালট সার্জন ও হেড – ডিপার্টমেন্ট অফ এইচ পি বি সার্জারি, মাল্টি-অর্গান অ্যাবডোমিনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট অ্যান্ড হেপাটোলজি, মণিপাল হসপিটালস, বেঙ্গালুরু; ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর; ডা. শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায়, কনসালট্যান্ট – জেনারেল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপিক জিআই অ্যান্ড অনকোলজি সার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ও ঢাকুরিয়া; ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠী, ডিরেক্টর অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস ও মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট; ডা. শঙ্কর চন্দ্রাপ্পা, রিজিওনাল হেড ক্লিনিশিয়ান এনগেজমেন্ট অ্যান্ড মেডিক্যাল সার্ভিসেস, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট; ডা. সুগতা চক্রবর্তী, রিজিওনাল হেড – মেডিক্যাল সার্ভিসেস, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট; এবং মি. কোমল দাশোরা, ক্লাস্টার ডিরেক্টর – মণিপাল হসপিটালস (মুকুন্দপুর ক্লাস্টার)। তাঁরা সম্মিলিতভাবে জটিল লিভার ও পাচনতন্ত্রের রোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও সমন্বিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই ইনস্টিটিউটটি একটি পূর্ণাঙ্গ, রোগীকেন্দ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং থেকে শুরু করে উন্নত চিকিৎসা, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা এবং জটিল সার্জিকাল হস্তক্ষেপ—সবই এক ছাদের নিচে উপলব্ধ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল দক্ষতার সমন্বয়ে এখানে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, হেপাটাইটিস, সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, প্যানক্রিয়াটিক ডিসঅর্ডার, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হবে। উন্নত এন্ডোস্কোপি স্যুট, মিনিমালি ইনভেসিভ ও রোবোটিক সার্জারি সুবিধা এবং নিবেদিত লিভার কেয়ার ইউনিটের পাশাপাশি এখানে রয়েছে একটি শক্তিশালী লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রোগ্রাম, যা শেষ পর্যায়ের লিভার রোগ, আকস্মিক লিভার ফেইলিউর এবং নির্দিষ্ট লিভার ক্যানসারের রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদান করবে। পাশাপাশি, জীবনযাপন ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি পরামর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমগ্রিক পুনরুদ্ধারের উপরও জোর দেওয়া হবে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, হেপাটোলজিস্ট, ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ, জিআই সার্জন, অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দল রোগীভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করবে।

ডা. জয়ন্ত রেড্ডি বলেন, “পূর্ব ভারতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখনও যথেষ্ট পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে না, মূলত সচেতনতার অভাব ও সময়মতো রেফারেলের ঘাটতির কারণে। উদাহরণস্বরূপ, কলকাতার মতো একটি শহরে গত বছর মোট প্রায় ২৫টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে, যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন তার অন্তত দ্বিগুণ। এই ব্যবধান দেখায় যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টকে একটি কার্যকর, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বিকল্প হিসেবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। সাধারণ ধারণার বিপরীতে, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য মূল প্রয়োজন একটি উপযুক্ত ব্লাড গ্রুপ, যা অনেকের ধারণার চেয়ে এটিকে অনেক বেশি সহজলভ্য করে তোলে। এই ইনস্টিটিউট চালুর মাধ্যমে আমরা সচেতনতা বাড়াতে, পরিষেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং আরও বেশি রোগীকে সময়মতো উন্নত ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ার পেতে সাহায্য করতে চাই।”

ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠী বলেন, “পূর্ব ভারতে ৫০%-এর বেশি ক্রনিক লিভার ডিজিজের জন্য অ্যালকোহল দায়ী, অন্যদিকে প্রায় ২০% ভারতীয় ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত, যা বছরে ২ লক্ষেরও বেশি মৃত্যুর কারণ। এর ফলে একটি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া স্বাস্থ্যসঙ্কট তৈরি হয়েছে। বড় সমস্যা হল রোগ নির্ণয়ে দেরি এবং উন্নত, সমন্বিত চিকিৎসার সীমিত সুযোগ। এই ইনস্টিটিউট চালুর মাধ্যমে আমরা উন্নত ডায়াগনস্টিক, থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপি, মিনিমালি ইনভেসিভ ইন্টারভেনশন এবং শক্তিশালী লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রোগ্রামসহ লিভার ও পাচনতন্ত্রের সম্পূর্ণ চিকিৎসা একত্রে নিয়ে এসেছি।”

ডা. সঞ্জয় বসু বলেন, “অনেক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও লিভারের রোগ উন্নত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত ধরা পড়ে না। আমাদের কেন্দ্রে এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড (ইইউএস), ইআরসিপি, এন্ডোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি, লিভার স্ক্যান ও বায়োপসি-সহ বিস্তৃত ডায়াগনস্টিক পরিষেবা রয়েছে, যা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করে।”

ডা. শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই কেন্দ্রে উন্নত সার্জিকাল সমাধানের পূর্ণ পরিসর রয়েছে, যেখানে ল্যাপারোস্কোপিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ প্রক্রিয়া যেমন কোলেসিস্টেক্টমি, অ্যাপেনডেক্টমি, হার্নিয়া রিপেয়ার ও ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির পাশাপাশি জটিল রিসেকশন, রেক্টাল ক্যানসার ও পেলভিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাধুনিক রোবোটিক জিআই সার্জারি করা হবে। এই নির্ভুল প্রযুক্তি রোগীদের জন্য নিরাপদ সার্জারি, দ্রুত আরোগ্য এবং উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করে।”

ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “পূর্ব ভারতে লিভার রোগ একটি বড় স্বাস্থ্যসঙ্কট হিসেবে উঠে আসছে, যেখানে গবেষণা বলছে প্রতি ৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় ১ জন ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। পাশাপাশি অ্যালকোহল-সম্পর্কিত ও মেটাবলিক লিভার রোগের হারও বাড়ছে। তবুও, উন্নত চিকিৎসা যেমন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ এখনও সীমিত, যার ফলে অনেক রোগীকেই চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হয়। এই ইনস্টিটিউট চালুর মাধ্যমে আমরা অঞ্চলের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ লিভার কেয়ার ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে, মণিপাল হসপিটালস সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ এবং বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রদান করে লিভার ও পাচনতন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় বিদ্যমান ব্যবধান দূর করতে চায়, যার ফলে সমগ্র অঞ্চলে রোগীদের জীবনমান ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত হবে।

Related News

Also Read