শুচিস্মিতা চক্রবর্তী:-ওষুধের ফয়েলটা নিয়ে হাতে নাড়াচাড়া করতে করতে দীপা ভাবছে আজ কতদিন হয়ে গেল ভালো করে ঘুমোয় না ও।এগুলো খেয়েও তো ঘুম আসে না আজকাল।শুধু একটা নেশার মতো তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকে।কতরাত হয়ে গেল সুজয়ের সাথে একটা কথা হয় না।কত রাত হচ্ছে চেম্বার থেকে ফিরতে কে জানে!সকালের ব্রেকফাস্টের টেবিলেও অর্দ্ধেক দিন দেখা হয় না,অথবা দেখা হয় তো কোনো কথাই হয় না।দীর্ঘ এক শীতলতা নেমে এসেছে ওদের সম্পর্কে।দীপা মনে মনে ভাবে,বড় তাড়াতাড়ি ওদের কথা ফুরিয়ে গেল।
অথচ এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।বিয়ের পর পর সুজয় দীপাকে চোখে হারাত।সম্বন্ধ করে বিয়ে হলেও বিয়ের আগে বছরখানেক মেলামেশার সুযোগ ওরা পেয়েছিল।তখনই জেনেছিল নদী বা সমুদ্রের থেকে পাহাড়ই দীপার বেশি প্রিয়।তাই দীপার পছন্দ মতো পাহাড়ের কোলেই গিয়েছিল হানিমুনে।তখন সুজয় এত ব্যস্ত ছিল না।আসলে তখন এত নামও তো হয়নি!
এখন শহরের নামকরা গায়নোকলোজিস্টদের মধ্যে একদম উপরের দিকে নাম আসে ডক্টর সুজয় সেনগুপ্তের।দু-তিনটে নামকরা বেসরকারি হাসপাতালের সাথে যুক্ত আর চেম্বারের সংখ্যার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।আগে তাও মাঝে সাঝে শত চেষ্টা করে দু-তিন মাসে একটা অন্ততঃ আউটিং এ যেত দুজনে।সুজয় আক্ষেপ করে বলত ‘ডাক্তারদের ফ্যামিলি থাকতে নেই দীপা; আমি বুঝি,তোমার বড় একা লাগে।কিন্তু কি করব বল আমাদের প্রফেশনটাই এরকম’।
দীপা শুধু মুখ নীচু করে হাসত।ও জানে,এরপরই সুজয় তুলবে সেই অপ্রীতিকর প্রসঙ্গ।যদিও নিজের ব্যর্থতা আর অপারগতার দোহাই দিয়েই সুজয় কথাগুলো বলে,তবুও দীপার ভেতরের তোলপাড় আর হাহাকার একমাত্র দীপাই বোঝে।এই পাঁচবছরে মোট তিনবার।তীরে এসেও তরী ডুবেছে।হাজার হাজার নৌকো পাড়ে বাঁধলেও নিজেদের ডিঙিটার নোঙরই ফেলতে পারল না ডক্টর সুজয় সেনগুপ্ত।
এত সাবধানে থেকেও কিভাবে যে তিন তিনবার মিসক্যারেজ হয়ে গেল তা দীপার বোধগম্য হয়নি।সে তো সুজয়ের কথামতোই সমস্ত ওষুধপত্র নিয়মমাফিক নিয়ে গেছে।সম্পূর্ণ বেডরেস্টে থেকেছে।তা সত্ত্বেও…
শেষবার তো ডেটের আর দিন পনেরো বাকি ছিল মাত্র।পরিপূর্ণ এক শিশুকন্যার মা হতে চলেছিল সে।প্রাণহীন মায়াজড়ানো মুখটাও দেখেছিল দীপা।কিন্তু কি যে হল!সুজয় হাতদুটো ধরে খালি বলেছিল-“শেষরক্ষা হল না দীপা,আমি পারলাম না..”
গত দুইবারেই চোখের সমস্ত জল বোধ হয় শুকিয়ে গেছিল।এবারে তাই একফোঁটা জলও গড়িয়ে পড়েনি দীপার।শুধু জ্ঞান হারিয়েছিল।সেই জ্ঞান ফিরেছিল ঠিক দুদিন পর।তারপর থেকে আর বেশি কথাবার্তা বলে না দীপা।সুজয়ও আর বেশি ঘাঁটায় না।দীপা যতই নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছে,সুজয় ততই কাজের মধ্যে ডুবে দূরে সরে গেছে।
তবে দীপার মনে চোরা প্রশ্ন উঁকি দেয় সুজয় এত বড় ডাক্তার হয়েও নিজের একটি সন্তানকেও কেন পৃথিবীর আলো দেখাতে পারল না।সত্যিই কি পারল না, না ইচ্ছে করে আলো দেখতে দিল না?এমন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন দীপার মনে আসত না যদি না সুজয়ের দেওয়া ওষুধগুলোর সাইড এফেক্ট ইন্টারনেটে খুঁজতে খুঁজতে ঐ বিষাক্ত ওষুধটা সম্পর্কে জানতে পারত।সুজয়কে একবার ওষুধটার কথা জিজ্ঞেসও করেছিল দীপা।কেমন যেন অস্বস্তি নিয়ে এড়িয়ে গিয়েছিল সুজয়।
-“তুমি কি আমায় সন্দেহ করছ দীপা?”
-“না,মানে…আমি..”
তারপর থেকেই সুজয় সচরাচর দীপার মুখোমুখি হচ্ছে না।শুধু দীপারই নয়,সুজয় আয়নায় নিজের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছে।কেউ জানে না,সুজয় পালিয়ে বেড়াচ্ছে।নিজের থেকে, দীপার থেকে, এই বাড়ির থেকে আর আয়নাটার থেকে।দীপার তৃতীয়বার মিসক্যারেজের পর থেকে যতবার সুজয় আয়নার সামনে দাঁড়ায় ততবার আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের বদলে দেখছে রক্তমাখা ছোট্ট ছোট্ট অনেকগুলো মেয়ে;দু-হাত বাড়িয়ে ছোট্ট ছোট্ট মুঠো দিয়ে সুজয়কে যেন তারা সকলে আঁকড়ে ধরতে চাইছে।প্রথমবার মনের ভুল ভেবে চোখ কচলে আবার তাকালেও সেই একই দৃশ্য।সুজয় নিজের পেছন,আয়নার পেছন খুব ভালো করে পরীক্ষা করেও কিছুই না পেয়ে চোখ বন্ধ করে বসে পড়ে।ঘরের প্রতিটা কোনা থেকে ভেসে আসে সদ্যোজাত বাচ্চাদের কানফাটানো চিৎকার আর কান্না।অসহনীয় সেই আওয়াজে সুজয়ের হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে আসে।পালিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে।কিন্তু সেই বাচ্চাগুলোর কান্নার আওয়াজ যেন কিছুতেই যেতে চায় না।সারাদিন কানের কাছে ঐ এক কান্নার আওয়াজ অবিরত হয়ে চলে।হাসপাতাল চেম্বার সব কমিয়ে দিয়েছে সুজয়।কিন্তু দীপাকে তার এই অবস্থার কথা ঘুণাক্ষরেও জানাতে পারে না।দীপা সেদিনই জানতে চেয়েছিল ওষুধটার কথা।তাহলে কি দীপা সব বুঝতে পেরে গেল?
‘টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার…হাও আই ওয়ান্ডার হোয়াট ইউ আ..’
ফোনটা অনবরত বেজে চলেছে।রিংটোনটা দীপা সেট করে দিয়েছিল।বাচ্চাদের পছন্দসই।এখনো চেঞ্জ করা হয়ে ওঠেনি।ফোনটা অ্যাসিস্ট্যান্ট সৌম্যর।অনিচ্ছা সত্ত্বেও কলটা রিসিভ করে সুজয়।
-“স্যার,আজও কি চেম্বারে আসবেন না ?অনেকগুলো কেস ছিল স্যার…”
-“আজ সব ক্যানসেল করে দাও সৌম্য।শরীরটা ঠিক লাগছে না”।
-“ওকে স্যার”
শরীরের দোহাই দিয়ে আর কতদিন এড়ানো যাবে,সুজয় নিজেও জানে না।টাকার নেশা বড় নেশা।এই টাকার জন্যই তো একের পর এক ভ্রূণ হত্যা করে চলেছে সুজয়।মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি ভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ করা আর কন্যাভ্রূণ হলে অবিলম্বে তার হত্যা।এখনো অনেক উচ্চবিত্ত পরিবার সুজয়ের মতো ডাক্তারদের পয়সার টোপ দিয়ে বেআইনি ভাবে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করিয়ে গোপনে কাজ হাসিল করে।আগে তাও কিছুক্ষেত্রে গাঁইগুঁই করলেও এখন যেন নেশার মতো হয়ে গেছে।সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সও ফুলে ফেঁপে উঠছে।
দীপা যখন প্রথমবার সন্তানসম্ভবা হল এই নেশার খাতিরেই সুজয় সেক্স ডিটেকশন করেছিল।আর মেয়ে হবে জেনেই নিজেরটাকেও শেষ করা মনস্থ করেছিল।এতদিন ধরে এত কেস হ্যান্ডেল করে করে ওর মধ্যেও অদ্ভুতভাবে কোথাও কন্যা সন্তানের প্রতি দারুণ একটা বিদ্বেষ জন্মেছিল।কন্যা সন্তান জন্মাতে নেই!তাই অনেক ওষুধের মধ্যে ঐ বিশেষ ওষুধটাও দীপাকে দিয়েছিল।যার প্রভাবে একটি সন্তানও পৃথিবীর আলো দেখতে পেল না।
আকাশের আলো নিভে এসেছে।নিয়নের আলোয় ঝলমল করছে রাতের শহর।বড় অস্থির লাগছে সুজয়ের।এদিক ওদিক উদ্দেশ্যহীনভাবে কিছুক্ষণ গাড়ি ছুটিয়ে চলল।এত আলো ঠিক সহ্য হচ্ছে না।বাইপাসের রাস্তাটা আধো অন্ধকার দেখে ঐদিকেই গাড়ি ঘুরিয়ে নিল।গাড়ির কাঁচটা খানিক নামিয়ে দেওয়ায় হালকা ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা একটু হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।গাড়ির স্পিডটা কমিয়ে রাতের নীরবতার আবেশ মেখে এগিয়ে চলল সুজয়।কতদূর চলে এসেছে তার কোনো ঠিক নেই।হঠাৎ যেন মনে হল অন্ধকারটা আরও গভীর হয়ে এল।হয়ত একটু একটু মেঘ করছে।এবার হাওয়ার সাথে একটা পচা মতো দুর্গন্ধ নাকে আসতে লাগল।সুজয় গাড়ির কাঁচ উঠিয়ে এবার ফিরে যাওয়া মনস্থ করে।কিন্তু হঠাৎ মনে হল কাছেপিঠে কোথাও একটা গোঙানির আওয়াজ।একটা চাপা কান্না যেন বাতাসের সাথে ভেসে ভেসে আসছে।শহর থেকে এত দূরে,এত রাতে এই অন্ধকারে কে হতে পারে?গাড়ি থামায় সুজয়।শব্দের উৎস সন্ধান করতে গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক দেখতে থাকে।মোবাইলের আলোটা জ্বেলে রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে ফেলে বলে-
“এত রাতে কে ওখানে?সামনে এস”
যতই মুখে বলুক ‘সামনে এস’,কিন্তু বুকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করতে থাকে।কিছুক্ষণ সব নিস্তব্ধ।শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না।মনের ভুল ভেবে গাড়ির দিকে পা বাড়ায় সুজয়।পেছন ফিরতেই আবার সেই খুনখুন করে কান্নার আওয়াজ।এবার আওয়াজটা মনে হল খানিকটা দূরে চলে গেছে।পা যেন মাটিতে জমে গেছে।ঝিরঝির ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।গাড়িতে করে ফিরে যাবে না শব্দটা কোথা থেকে আসছে দেখবে কিছুই ঠিক করতে পারছে না সুজয়।একবার মনে হল নাঃ ফিরে যাই।কি দরকার রাত বিরেতে ঝামেলায় জড়িয়ে,পরক্ষনেই মনে হল এগিয়ে দেখাই যাক।ভয় লাগলেও শব্দটার মধ্যে যেন এক অদ্ভুত আকর্ষণ আছে।পায়ে পায়ে এগিয়ে চলল সুজয়।যতই এগোতে লাগল, পচা গন্ধটা যেন ততই তীব্র ভাবে নাকে আসতে লাগল।কিন্তু কান্নার হদিশ কিছুতেই পাচ্ছে না।যত এগোচ্ছে মনে হচ্ছে আওয়াজটা যেন আরও কিছু দূর থেকে আসছে।এভাবে যে গাড়ি থেকে কতটা দূরে চলে এল,তার ইয়ত্তা নেই।একসময় মোবাইলের আলোটাও নিভে গেল।চার্জ তো শেষ হওয়ার কথা নয়।গাড়ির চার্জারেই তো এতক্ষণ চার্জ হচ্ছিল ফোনটা।চারিদিক নিকষ কালো অন্ধকারে ডুবে গেল।মোবাইলের আলোটাতে তাও খানিকটা ভরসা ছিল, কিন্তু এবার এই অজানা অচেনা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে সুজয়ের বেশ ভয় করতে লাগল।মোবাইলটা প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে নিয়ে এক পা এক পা করে এগোতে লাগল।ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটায় গায়ে একটা অদ্ভুত শিরশিরানি অনুভূতি হচ্ছে।আলোটা নিভে যেতেই হঠাৎ করে যেন কান্নার দমক খানিক বেড়ে গেল।সুজয় কাঁপা কাঁপা গলায় আবার বলল-
“কে কাঁদে ওখানে?আমি কি কিছু সাহায্য করতে পারি?কিছু কষ্ট হচ্ছে?আমি একজন ডাক্তার..”
অকস্মাৎ পেছন থেকে পায়ের কাছে প্যান্টে একটা মৃদু টান।খুব মিহি একটা আধো আধো বুলিতে কেউ যেন বলে উঠল
-“তাইলে আমাতে বাঁচালে না তেন?”
সুজয় চমকে উঠে পেছন ফিরতেই মনে হল যেন ছোট্ট একটা শরীর আঁধারে মিলিয়ে গেল।আবার পেছনে ফিরতেই মনে হল অজস্র ছোট ছোট ছায়া শরীর তার দিকেই ধেয়ে আসছে।আবার সেই কান্নার আওয়াজ আর বিশ্রী পচা গন্ধ।সুজয়ের মনে হল এবার বুঝি দম বন্ধ হয়ে যাবে।নাকটা কোনোরকমে চেপে দৌড়বে মনে করল সুজয়।কিন্তু বৃথা চেষ্টা।গাড়ি তো দূরস্থান,অন্ধকারে নিজের হাতদুটোও ঠিক করে দেখতে পাচ্ছে না সে।শুধু মনে হচ্ছে ভেজা ভেজা চ্যাটচ্যাটে মাংসপিণ্ডের মতো কিছু জিনিস ওর সারা শরীরে কিলবিল করে বেড়াচ্ছে।পচা দুর্গন্ধে বমি উঠে আসে সুজয়ের।সঙ্গে কানফাটা কান্নার আওয়াজে মাথা ফেটে যাওয়ার জোগাড় হয়।শত চেষ্টা করেও এক পা এগোতে পারছেনা সুজয়।মনে হচ্ছে যেন কোনো পাঁকের মধ্যে পা-দুটো জেঁকে বসেছে।এক চুলও সে ওখান থেকে নড়তে পারছে না।অসহায় হয়ে চিৎকার করে ওঠে সুজয়
-“এগুলো কি?কি চাও তোমরা আমার কাছে?তোমরা কারা?”
সাথে সাথে অজস্র ছায়াশরীর সুজয়ের চারিদিক ঘিরে ধরে।একসাথে কানফাটানো আওয়াজে বলে ওঠে
-“ওদুলো আমাদেল ছরীর।আমাদেল তেন মারলে?তেন তেন তেন?”
দুহাত দিয়ে কান বন্ধ করে সুজয়।অপেক্ষাকৃত বড় একটা ছায়াশরীর মুখের খুব কাছে এসে বলে-
“আমায় দরে নিয়ে তল বাবা;মা অপেথ্থা তরছে..”
আর পারল না সুজয়।চেতনা হারিয়ে ওখানেই পড়ে গেল।অন্ধকার খানখান করে প্যান্টের পকেটে মোবাইলটা ততক্ষনাৎ চিৎকার করে উঠল
“টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার/হাউ আই ওয়ান্ডার হোয়াট ইউ আর…”
সারারাত ঘরে ফেরেনি সুজয়।বারবার ফোন করেও না পেয়ে কেমন যেন কু-ডাক দেয় মনে।অ্যাসিস্ট্যান্ট সৌম্যকেও অনেকবার ফোন করেছে দীপা।কিন্তু কোনো খবর পায়নি।ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে সুজয় ফেরে।কলিংবেলের আওয়াজে দৌড়ে এসে দরজা খোলে দীপা।সারারাতের উৎকন্ঠায় চোখের নীচের কালি স্পষ্ট।
-“সারারাত কোথায় ছিলে সুজয়?কোথায় গেছিলে?আমি কতবার কল করলাম…” -আকুল কন্ঠে বলে ওঠে দীপা।
-“আমি নিজের থেকেই পালাচ্ছিলাম দীপা।আমায় ক্ষমা কর।আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করে ফেলেছি।আমাদের সন্তান,আমাদের মেয়ে ঠিক ফিরে আসবে তুমি দেখো;আমি,এই আমরা দুজন মিলে ফিরিয়ে আনব তাকে আবার…” বলেই হাউহাউ করে দীপার বুকে কেঁদে লুটিয়ে পড়ে সুজয়।
দীপা ঠিক আগের মতোই পরম ভালোবাসায় সুজয়কে কাছে টেনে নেয়।কতদিন পর তার সুজয় তার কাছে এমনভাবে এসেছে।এই মুহুর্ত আবার ফিরে পাবে কিনা জানা নেই।আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় তাকে।
“হর ঘড়ী বদল রহী হ্যায় রূপ জিন্দগী…”- মোবাইলের শব্দে চটক ভাঙে দীপার।এতক্ষণ কি তাহলে ও স্বপ্ন দেখছিল?
ফোনটা ধরতেই সৌম্যর উদ্বিগ্ন গলা-“ম্যাডাম, খবর শুনেছেন?স্যার…”
-“কি হয়েছে তোমার স্যারের?এইমাত্র তো এখা…” বলতে গিয়েও থেমে যায় দীপা।বিছানার চাদরটুকুই শুধু এলোমেলো বাকি কোথাও তো সুজয়ের…নাঃ,দৌড়ে গিয়ে টিভি অন করে দীপা।
“ব্রেকিং নিউজ্: আজ ভোর রাতে শহরের প্রান্তে ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে উদ্ধার প্রখ্যাত গায়নোকলোজিস্ট সুজয় সেনগুপ্তের মৃতদেহ।মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা।ফরেন্সিক টিম এসে পৌঁছবে কিছুক্ষণের মধ্যেই…”
আর শুনতে পারল না দীপা।ওখানেই ধপ করে বসে পড়ল।আবার গান বাজছে মোবাইলে- “হর পল ইহাঁ জী ভর জিয়ো/…কল হো না হো…”
-“হ্যালো,ম্যাডাম, থানা থেকে বলছি; আপনাকে একবার আসতে হবে..”
ঘটনার দেড়মাসের মাথায় শরীরে কিছু পরিবর্তন খেয়াল করে দীপা।পূর্ব অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারে সে আবার সন্তানসম্ভবা।তাহলে সেদিন সুজয় সত্যিই এসেছিল;সব সত্যি?এও সম্ভব!হাজার প্রশ্ন মনে।মনে
সৌজন্যে – প্রতিলিপি






