মা-বাবা দুজনেই আগেই তো টের পেয়েছেন, এ মেয়ে জগন্মাতা। তবু নিজের মেয়ে ভেবেই তাকে মানুষ করতে লাগলেন। শ্যামাসুন্দরী তার নাম রাখলেন ‘ক্ষেমঙ্করী’। সারদাদেবী পরে বলেছেন, “আমার মাসীমা বললেন, ‘দিদি, তোর মেয়েটির নাম বদলে সারদা রাখ।’ তাই আমার মা আমার নাম রাখলেন ‘সারদা’।”
আদরের মেয়ে সারদা বাংলার পল্লীর পরিবেশে বড় হয়ে উঠতে লাগল। চারিদিকে সবুজ শস্যভরা মাঠ। গাছে গাছে কত ফুল। পুকুরে অনেক পদ্ম ফোটে এই অঞ্চলে। গ্রামের লোকগুলি গরিব হলেও সরল, ধার্মিক। সারাদিন কাজকর্ম করে, সন্ধ্যার পর কখনো কথকতা, কখনো রামায়ণ-মহাভারত পাঠ, যাত্রা— এইসব হয়। এসব আসরে পুরাণের গল্প নিয়ে আলোচনা হয়। যাঁরা ভগবানকে দেখেছেন, তাঁদের গল্প। কি করে দেখেছেন, কিভাবে চললে ভগবানকে পাওয়া যায়, তার কথা।
সারদার শিক্ষা হতে থাকল এইসব দেখে শুনে, আর নিজের ধর্মপ্রাণ মা-বাপের জীবন দেখে। সারদা কোন স্কুলে পড়েনি। তখন ও-অঞ্চলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখার বেশি চল ছিল না। একবার ‘বর্ণপরিচয় আনিয়েছিলেন, কিন্তু হৃদয় কেড়ে নিয়েছিল, পড়তে দেয়নি না পড়লেও শাস্ত্রের কথা কত শিখেছিলেন তিনি।
পরে তিনি একদিন শাস্ত্রের গভীর কথা কিছু আলোচনা করার পর একজন জিজ্ঞেস করেন, “মা, তুমি এসব জানলে কি করে ?” উত্তরে মা বলেছিলেন, “তখন কত কথকতা হতো মা। আমরা তাই শুনে শিখেছিলাম।”
শ্যামাসুন্দরী সে মনে পতি রামচন্দ্র সনে পোষে আশাটিরে আসিবে যে বলেছে সে বৈকুণ্ঠ করিবে এসে দরিদ্র-কুটিরে। পুরায়ে সে মনস্কাম আসিলেন ধরি’ নাম ‘শ্রীসারদামণি’ জয়রামবাটী গ্রাম করিলেন পুণ্যধাম জগৎ-জননী।
সৌজন্যে – শ্রীরামকৃষ্ণায়তে নমঃ






