Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

কাঁথিতে ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের মূর্তি স্থাপনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

একযোগে উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক সমাজসেবী সংগঠন

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি শহরে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার মাধ্যমে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের মূর্তি স্থাপনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপু খানের আহ্বানে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় জেলার একাধিক স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজসেবী সংগঠন অংশগ্রহণ করে। সভায় পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কমিটি, পশ্চিম বামুনিয়া সমৃদ্ধি ফাউন্ডেশন, ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স, দেশপ্রাণ এডুকেশন ফোরাম, অল ইন্ডিয়া সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, জোনাকি ট্রাস্ট সহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

দীর্ঘ আলোচনা পর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কাঁথি শহরের উপযুক্ত স্থানে ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের মূর্তি স্থাপন করা হবে। এই উদ্দেশ্যে কাঁথির মহকুমাশাসক (এসডিও) এবং কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে শীঘ্রই লিখিত আবেদন জানানো হবে।

সভায় আরও জানানো হয় যে, মূর্তি স্থাপনের জন্য কাঁথি শহর ও সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। ওই স্থানগুলির বিবরণ ও প্রস্তাব প্রশাসনিক দপ্তরের বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রশাসনের চূড়ান্ত সম্মতির পরই নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করা হবে। সভায় উপস্থিত সকল গৃহশিক্ষক ও অন্যান্য সমাজসেবী গনের সম্মতিক্রমে প্রাথমিকভাবে কয়েকজন সমাজসেবীর উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, যাতে মূর্তি স্থাপন সংক্রান্ত জরুরি ও প্রাথমিক পদক্ষেপগুলি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এই দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন দীপু খান, সুমিত দাস, সুদীপ্ত মণ্ডল, সুনীল দাস, বিপ্লব মান্না , এস কে নুর ইসলাম এবং তপন ঘোষ । তাঁরা প্রশাসনিক যোগাযোগ, প্রাথমিক পরিকল্পনা ও সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

এছাড়াও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী দিনে সকল অংশগ্রহণকারী সংগঠন ও বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সুসংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপু খান বলেন,

“ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের জীবন ও আদর্শ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। এই উদ্যোগ সমাজের কাছে তাঁর আদর্শকে স্থায়ীভাবে তুলে ধরবে।” পশ্চিম বামুনিয়া সমৃদ্ধি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সুমিত দাস বলেন “ড. কালাম আমাদের রাষ্ট্রপতি , বিজ্ঞানী , আমাদের অনুপ্রেরণা । তিনি শিখিয়েছেন স্বপ্ন দেখতে। “স্বপ্ন সেটা নয় যা ঘুমিয়ে দেখা হয়, স্বপ্ন সেটা যা মানুষকে জাগিয়ে রাখে।” আত্মবিশ্বাস রাখতে এবং দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে। এই উদ্যোগ কাঁথির ছাত্রছাত্রী ও যুব সমাজের কাছে এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।” পশ্চিম বামুনিয়া সমৃদ্ধি ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুদীপ্ত মণ্ডল বলেন,“এই উদ্যোগ কেবল একটি মূর্তি স্থাপন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবোধের বার্তা।” ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স-এর প্রতিনিধি সুনীল দাস বলেন,“ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের আদর্শ বিজ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিকতার এক অনন্য সমন্বয়। তাঁর মূর্তি স্থাপন সমাজকে ইতিবাচক দিশা দেখাবে এবং যুবসমাজকে দেশগঠনের পথে উদ্বুদ্ধ করবে।” সভা শেষে উপস্থিত সকল সংগঠন এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Related News

Also Read