সারা দেশ জুড়ে ধর্ম নিয়ে চলা এক অস্থির পরিবেশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর সম্প্রীতিনগর যেন এক রূপকথার দেশ। এখানে মনুষে মানুষে ধর্মের কোন বিভেদ নেই। দুর্গাপুজো কিংবা ঈদ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এক সাথে উপভোগ করে । তাই প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজো এসে পড়লেই পুজোর সাহায্য রসিদ বই অর্থ সাহায্য তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন হাতিম সাহা, অজগর আলি এবং আফজল সাহরা। তবে শুধু চাঁদা তোলা নয় সৌমেন জানা ,ধূর্যটি পন্ডাদের সঙ্গে বসে পুজো ও পুজোর অনুষ্ঠন ভোগের পরিকল্পনা তৈরি করেন নিখুঁতভাবে ।

রামনগরের ঠিকরার কাবরার এই সম্প্রীতিনগরে স্থায়ী শিব দুর্গা মন্দির আর কাবরা মসজিদের অবস্থান পাশাপাশি । মন্দিরের মন্ত্র আর মসজিদের আজান মিলেমিশে একাকার এখানে। এই নিয়ে কোনদিন বিভেদ হয়নি স্থানীয মানুষদের মধ্যে।
স্থানীয় জাগরণ সঙ্ঘ এবার ৮২ বছর ধরে দুর্গা পুজোর আয়োজন করে আসছে। আর এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির নিদর্শনের জন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জায়গার নাম দিয়েছেন সম্প্রীতিনগর।

জাগরণ সঙ্ঘের সম্পাদক সুধাংশু শেখর দে বলেন, ৮২ বছরের এই পুজো ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য বহন করে চলছে। এখানে শুধু মন্দির ও মসজিদ কাছাকাছি নয় এই এলাকার মানুষ দুর্গাপুজো আর মহরমের আনন্দ এক সাথে ভাগ করে নেয়।
স্থানীয় কাবরা , তালগাছাড়ি ফতেপুর, হীরাপুর, গোবরা সহ আশপাশের গ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষ এক সাথে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেন শারদ উৎসবের কদিন।
হাতিম সাহা ,সৌমেন জানাদের একটাই কথা সকলে মিলেমিশে পুজো করার আনন্দই আলাদা।
কাবরা গ্রামের দেবাশিষ মাইতি, বলেন এক সময় ঠিকারাতে হাট বসতো। হাটে সব ধর্মের মানুষ আসতেন। এখন আর হাট বসেনা । তবে হাটের সম্প্রীতির সুর আজও ধরে রেখেছে এই দুর্গোৎসব
হাতিম সাহা বলেন, পুজোর চাঁদা তুলতে গেলে কেউ প্রশ্ন করেনা তোমরা চাঁদা আনতে এসেছো কেন। আর এই পুজোর আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে হিন্দু মুসলিম সব পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয় আজও। স্থানীয় মানুষদের কথায় ধর্ম নিজের আর উৎসব সকলের ৮২ বছর ধরে এই দুর্গোৎসব সেই কথাই বলে আসছে।।
এদিন পুজোর প্রাক্কালে রক্তদান শিবির ও চক্ষু পরীক্ষার শিবিরের আয়োজন করা হয়





