ফের একবার প্রকাশ্যেই গোষ্ঠীকোন্দল তৃণমূলের। একই দিনে যুযুধান তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মোটরবাইক র্যালিকে কেন্দ্র করে কার্যত কোন্দল দেখা দিল খোদ রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী’র গড়, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে ফের প্রকাশ্যেই কোন্দল তৃণমূলে।

রামনগর ১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি কৌশিক বারিকের নেতৃত্বে প্রথমে রামনগরের চৌদ্দমাইল থেকে দিঘা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার ঐতিহাসিক মোটরবাইক র্যালির আয়োজন করা হয়। তারপর ওল্ড দিঘায় পথ সভা আয়োজিত হয়। সেখানে ছিলেন সভার সভাপতি তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা সুশান্ত পাত্র, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তমাল তরু দাস মহাপাত্র, জেলা এসসি ও ওবিসি সেলের সভাপতি মাণিক ঘোড়াই, জেলা পরিষদের সদস্য রিজিয়া বিবি ও রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দীপক সার প্রমুখ।

অপরদিকে, রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি এবং কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি’র নেতৃত্বে রামনগর ২ ব্লক তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের উদ্যোগে রামনগর রেলক্রসিং থেকে দেপাল হয়ে মৈতনা পর্যন্ত একটি মোটরবাইক র্যালির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, মৈতনাতে পথসভাও করেন স্থানীয় এলাকার বিধায়ক অখিল গিরি। তবে তৃণমূলের উভয়গোষ্ঠীর নেতৃত্বরা দাবি করেছেন যে, তাঁদের স্বঘোষিত পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু এদিন গোষ্ঠীকোন্দলের আঁচ ভেবেই দিঘার সভায় কার্যত ব্রাত্য থাকলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পিজুস কান্তি পণ্ডা। এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক গোষ্ঠীর নেতৃত্বরা দাবি করেন যে, আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রামনগরে বহিরাগত নয়, রামনগরের ভূমিপুত্রকে চায় তাঁরা।

নাম না করেই তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতৃত্বরা। কিন্তু এ প্রসঙ্গে রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে তথা কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “মানুষ জানে যে, কে তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে রামনগরে আছে। আর যারা সেখানে মিছিল (দিঘায়) আছে তারা তৃণমূলের ইতিহাস সম্পর্কে জানে না।”





