Select Language

[gtranslate]
১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ সোমবার ( ২৯শে জুন, ২০২৬ )

।। বানপ্রস্থ ।।

জয়ন্ত ঘোষ :- অলকেন্দুবাবুর চলে যাওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারেন নি শ্রীপর্ণা |

ইতিমধ্যেই বাড়ির সদস্যদের অনুপ্রাণিত হবার মতন মন্তব্য প্রায়শই কানে আসতে মনটা ভারী হয়ে যায়,
-আমার স্বামীর বেসরকারি কোম্পানির চাকরি, আমি বাপু দেখাশোনা করতে পারবো না !
-আমার স্বামীর সরকারি চাকরি তো কি ? ছেলে মেয়ের পিছনে মাসে এক লক্ষ টাকা খরচ, সম্ভব নয় !

-বড়ো বৌদি, মেজো বৌদি, আমি ছোট হলেও মাকে দেখতে পারতাম, কিন্তু ফ্যাক্টরিতে লক আউট, প্রায় মাস ছয়েক ধরে এক পয়সাও রোজগার করতে পারছি না |
-দেখো তোমরা, আমি ছোট বৌ বলে ছোট কথা বলছি না | বাড়িটা প্রোমোটারকে দিয়ে দিলে সব ঝামেলা মিটে যায়, আমিও বলছি, ও তাই বলে আসছে !

বিকেল বেলা ছাদ থেকে সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখে মনটা ভরে যায় শ্রীপর্ণার | যতদূর দেখা যায় পশ্চিম প্রান্তে চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে একটুও বিরক্ত হন না তিনি |

তবুও সুবিমলকে ফোন করার কথা মনে পড়ে যায়,
-ভাই, তোদের বৃদ্ধাশ্রমে কথা বলেছিস ? আজকে জানাবি বলেছিলিস, কি হয়েছে ভাই বোনে পাশাপাশি থাকা যায় না ? শেষ বয়সে বেশ কেটে যাবে, তোর যেমন ছেলে মেয়ে কেউ নেই, আমারও তো সব থেকেও কেউ নেই ! আর টাকাপয়সার কথাটা ওনাকে বলেছিস তো ? পরশু দিন সব মিটে যাবে !

ছোট ভাই সুবিমলের সাথে শ্রীপর্ণাকে চলে যেতে দেখে সবাই অবশ্য দরজায় এসে দাঁড়ায় | একমাত্র বড়ো ছেলেই মুখ খোলে,
-মা, কাল সন্ধ্যায় দেখা হলো, কিছু তো জানালে না ? একবার তো মুখ ফুটে বলতে পারতে ? আমাদের কি মানুষ বলে মনে করো না ?



শ্রীপর্ণা দেবী শেষবারের মতন একবার ঘুরে দাঁড়ান, সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, -তিনটে ছেলে, বৌমা থাকাতে যেখানে মার একটুও থাকার জায়গা হয় না, তাদের তো বাবা মান আছে বলে মনে হয় না, তাছাড়া আমাকে মা বলে পরিচয় দিতে যেখানে তোমাদের এতো লজ্জা, সেখানে তোমাদের হুঁশ বলেও কি কিছু অবশিষ্ট রয়েছে ? আর এই মান আর হুঁশ ছাড়া যে মানুষের কোনো সংজ্ঞাই হয় না বাবা !


সৌজন্যে – প্রতিলিপি

Related News

Also Read