Select Language

[gtranslate]
২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ শনিবার ( ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ )

ঝাঁটা হাতে রাস্তা পরিষ্কার করে রথের সূচনা করলেন বিমান

প্রদীপ কুমার সিংহ

 

রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাঁটা হাতে রাস্তা পরিষ্কার করে ও রথের রশ্মির টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর থানার অন্তর্গত বারুইপুর সুবুদ্ধিপুর কল্যাণ সংঘের মাঠের কাছে।

 

বারুইপুর পৌরসভা ২ নম্বর ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের এবছর প্রথম বছরের রথযাত্রার উৎসব করে। কয়েকশো মানুষ শুক্রবার বিকালে জগন্নাথ,সুভদ্রা,বলরামে দেবের বিগ্রহ প্রায় ৫০০ কেজি স্টিলের তৈরি রথের রশ্মির টান দেন।।

 

অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন বারুইপুরের পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাংগঠনিক সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মৎস্য ও প্রাণি দপ্তরের কর্মদক্ষ জয়ন্ত ভদ্র,বারুইপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর পিতা এই রথযাত্রার উদ্যোক্তা তাপস ভদ্র সহ অন্যান্য পাড়ার বিশিষ্ট মানুষ ও ওয়ার্ড গুলির বেশ কিছু মহিলা ব্রিগেড বাহিনী। এই রথযাত্রার পরিচালনায় সুবুদ্ধিপুর রথ উন্নয়ন কমিটি।

 

এই রথযাত্রা অরূপ ভদ্র কমিউনিটি হল ও কল্যাণ সংঘের মাঠের পাশ থেকে শুরু হয় শুক্রবার বিকেল ৬টা নাগাদ তার সুবুদ্ধিপুর বেলতলা,মাস্টার পাড়া, থৈ পাড়া, বারুইপুর স্টেশন পূর্বাঞ্চলের রাস্তার পাশ থেকে প্রগতি সংঘের মাঠ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাতটায় শেষ হয়। প্রথম বছরে এই রথযাত্রা উৎসবে ঘিরে এলাকার মানুষের উন্মাদনা ছিল প্রচুর। প্রগতি সংঘের মাঠের কাছে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি করা হয়। সেখানেই শেষ হয় এই রথযাত্রা। রথযাত্রা উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জগন্নাথ দেবের মহাপ্রসাদ ভোগ জীবে গজা বিলি করা হয়।

 

পাশাপাশি রথ উপলক্ষে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বারুইপুর ফুলতলা দুর্গোৎসব পূজা কমিটির ৭৫ তম দূর্গা পূজা খুঁটি পূজা হয় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার সময়। এই খুঁটি পূজার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক বিভাস সরদার, তৃণমূলের যাদবপুর জেলা সংগঠনের সভাপতি তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুভাশিষ চক্রবর্তী, বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, রামনগর দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোমনাথ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সেইসঙ্গে এলাকার প্রচুর মানুষ।

 

শুভাশিস চক্রবর্তী এই খুঁটি পূজা উপলক্ষে বলেন খুঁটি পূজা মানেই দূর্গা উৎসব আরম্ভ হওয়া।সাধারণ মানুষ যাতে ভেদাভেদ ভুলে সমস্ত জাতির মানুষ এক হয়ে এই উৎসবকে আনন্দ মুখরিত করে তোলার কথা বলেন। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন কলকাতায় অনেক বড় বড় পূজা মন্ডপের মানুষ ভিড় করে কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বারুইপুরে বেশ বড় বড় পূজা মন্ডপের ঠাকুর ভালই হয়। তাতে করে অনেক মানুষ কলকাতা না গিয়ে বারুইপুরে সারা রাত্রি জেগে ঠাকুর দেখে। এই পূজা কমিটির পূজা কয়েক বছর ধরে মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে।

 

এলাকার বিধায়ক বিভাস সরদার বলেন বাঙালি বড় উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু এই পূজার উন্মাদনা খুশি সমস্ত জাতির মানুষ এক হয়ে উপভোগ করে এখানে কোন জাতির ভেদাভেদ থাকে না। মুসলিম সম্প্রদায় মানুষ যেমন ঈদে আনন্দ উৎসব করে তেমনি অনেক বাঙালি ও মুসলমানদের এই উৎসবকে আনন্দ মুখরিত করে। খ্রিস্টানরা বড়দিন পালন করে সেই সময় হিন্দু বাঙালিরা ও সেই উৎসব পালন করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

 

তেমনি দুর্গা পূজাতে অনেক মুসলিম,খ্রিস্টান,শিখ সম্প্রদায় মানুষ এই পূজা কাঁধে কাঁধ মিলে করে।বারুইপুর ফুলতলা দুর্গোৎসব কমিটির পরিচালনায় এ বছর ৭৫ তম বর্ষের দুর্গাপূজা হবে। এই পূজা উপলক্ষে বিশেষ আকর্ষণ তো থাকবেই। তবে এই পূজার সম্বন্ধে এই পূজা কমিটি কোন সদস্য কি থিম হবে,কি ঠাকুর হবে,কি লাইটিং হবে তাই নিয়ে কথা বলতে চান। সবাই একই কথা ৭৫ বছরের দুর্গা পূজা উপলক্ষে বিশেষ চমক থাকবেই। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে এলাকার সমস্ত মানুষকে এই দিন ফুচকা, আইসক্রিম এবং পোলাও, আলুর দম খুঁটি পূজার প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

Related News

Also Read