স্বামী ঋতানন্দ :- একদিন ভাবিলাম, মাকে জিজ্ঞাসা করিব কিরূপে সাধন-ভজন করিতে হইবে। মা বিকালে বারান্দায় বসিয়া মালাজপ করিতেছিলেন। কাছে গিয়া সেসব কথা ভুলিয়া গেলাম ; প্রশ্ন করিবার ইচ্ছাই হইল না।কেবল বলিলাম , “মা, আপনি আমার ভার নিন। ” – বলিয়াই কাঁদিয়া ফেলিয়াছি।
মা তখন আশ্বাস দিয়া বলিলেন , “কেঁদো না, তোমার ভার তো আমি অনেকদিন নিয়েছি। ঠাকুর তোমার ভার অনেকদিন নিয়েছেন। ভাবনা কি?”
আমি একদিন স্বপ্ন দেখি যে মা আমাকে বলিতেছেন , “ব্রহ্মচর্য লও।” পূজ্যপাদ হরি মহারাজকে উহা বলিলে তিনি বলিলেন , “এই কথা তুমি মাকে গিয়া বলিও।” কিছুদিন পর কোয়ালপাড়ায় মাকে ঐ কথা বলিলাম। মা শুনিয়া একটু হাসিলেন এবং বলিলেন , “তবে কাল আমি যখন পূজা করব সে সময় একখানি নতুন কাপড় নিয়ে এসো। কেউ যেন না জানে।”
পরেরদিন যখন মায়ের নিকট গেলাম তখন তিনি পূজা করিয়া জলখাবার খাইয়া বারান্দায় বসিয়া মুখে গুল দিতেছেন। আমাকে দেখিয়াই জিব কাটিয়া বলিলেন , “দেখ, পূজা হয়ে গেছে, আমি ভুলে গেছি। তা হোক, আমি মুখ ধুয়ে নিচ্ছি। তুমি ঠাকুরঘরে গিয়ে বস।”
মা ঠাকুরঘরে আসিয়া বলিলেন, “দরজাটা ঠেসিয়া দাও, ওরা (মেয়েরা) আছে।” তারপর আমাকে বলিলেন ,”গায়ের জামাটা খুলে ফেল।” কোশার জল লইয়া আমার শরীরে ছিটাইয়া দিলেন। তারপর আমার নাভিতে, বুকে ও মাথায় হাত দিয়া কি করিতে লাগিলেন। নতুন কাপড়খানি লইয়া আমাকে বলিলেন ,”ঐ দেখ, ঠাকুর আছেন। বল, আজ তোমাকে আমার সব ভার দিলাম। ”
পরে কাপড়খানি আমার হাতে দিয়া বলিলেন , “আজ তোমার প্রাণের ভিতর সন্ন্যাস দিলাম।” আমি তখন যেন দিশেহারার মতো হইয়া গিয়াছি, মাকে প্রণাম করিতে পর্যন্ত ভুলিয়া গেলাম। আমার এই ভাবটা কয়েকদিন পর্যন্ত ছিল।






