কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে দুষ্কৃতীদের লালসার শিকার হয়েছিলেন কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক। আর একই কায়দায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভেতরেই একই কায়দায় কর্তব্যরত এক মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই হাসপাতালে কর্মরত বেসরকারী সংস্থার কর্মীর বিরুদ্ধেই। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই হাসপাতালে ফেসিলিটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বেশ কয়েকবছর ধরেই বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে কাজ করছেন পীড়িত মহিলা। তাঁর অভিযোগ, “আমাকে ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোরাজুরি করছিল। কাউকে বললে মেরে দেবে বলে হুমকি দিচ্ছিল। এই বিষয়ে আমার সংস্থার ওপরতলায় জানিয়েছিলাম। গতকাল আমাকে কিছু জিনিস আনতে বলেছিল। আমাদের কোম্পানীর ফেসিলিটি ম্যানেজার। আমাকে কিছু জিনিস আনতে বলে। আমি ওই ঘরে গেলে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়। পরে এই বিষয়ে আমি হাসপাতাল সুপারকে জানিয়েছি”।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারী এক যুবকের দাবী, ” হাসপাতালের ফেসিলিটি ম্যানেজার কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। প্রতিনিয়ত মহিলা কর্মীদের সঙ্গে কুরুচিকর কথা বলেন। মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাজ করতে হয় কর্মীদের। ণয় দেখিয়ে যেভাবে ওই মহিলা কর্নীকে ধষণ করা হয়েছে তার জন্য ওই ব্যক্তির কঠোরতম শাস্তির দাবী জানাচ্ছি আমরা”।
এলাকার বিজেপি নেতারাও পাঁশকুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সিন্টু সেনাপতি জানান, “আরজিকর থেকে শিক্ষা নেয়নি তৃণমূলের সরকার। না হলে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভেতরেই এক মহিলা কর্মীকে কিভাবে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন। গোটা বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তির দাবী জানাচ্ছি আমরা। সেই সঙ্গে হাসপাতালাের ভেতর চিকিৎসক, নার্স ও মহিলা কী্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবী জানাচ্ছি। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমরা বৃহত্তম আন্দোলনে সামিল হব”।





