Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভিন্ন ভাষার নাটক প্রতিযোগিতা হলো মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়

 

প্রদীপ কুমার সিংহ

 

স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভিন্ন ভাষাভাষী নাটক প্রতিযোগিতা হলো মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়ে। সম্প্রতি মুক্ত অঙ্গন রঙ্গালয়ে কলাক্রান্তি আয়োজিত ৩১ তম বর্ষ এর দু’দিনব্যাপী বহুভাষিক স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক প্রতিযোগিতা হয়ে গেল।এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা কলাক্রান্তির সভাপতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শ্রী সৌমিত্র পাল, প্রাক্তন কলকাতা শেরীফ ডক্টর ইন্দ্রজিৎ রায়সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান ডক্টর রমেন্দু হোম চৌধুরী, কলাক্রান্তির প্রতিটি সদস্য সদস্যা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কলাক্রান্তির অন্যতম প্রাক্তন সহ সভাপতি ডঃ ব্রততী লাহিড়ি মজুমদার তার মাতৃদেবী দেব বালা ব্রহ্মের স্মৃতিতে বিশিষ্ট নাট্য শিল্পী বেবী সরকারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা করেন প্রতিবছরের ন্যায় এবারও একজন শিল্পীকে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পুষ্পস্তবক ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের বিশিষ্ট নাট্যকর্মী বেবী সরকার কে। উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যেতে পারে তিনি দায়বদ্ধ নাটকটিতে ৭০০ রজনী অভিনয় করেছেন। সেইসঙ্গে আরো বহু নাটক বহু থিয়েটারে অভিনয় করেছেন।

এবার প্রতিযোগিতায় মোট বহু ভাষিক ১৩টি নাটকের দল অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় ছিল ১টি ইংরাজি,৩টি হিন্দি এবং ৯টি বাংলা নাটক মঞ্চস্থ হয়।কলাক্রান্তির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত অনিমেষ কান্তি ঘোষাল ও তার স্বর্গীয় মাতৃদেবী গৌরিকণা দেবীর স্মৃতিতে কলাক্রান্তি এই নাট্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সাধারণত এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ভাষায় বিভিন্ন নাটকের গ্রুপ অংশগ্রহণ করে এই কর্মকাণ্ডে।এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য নাটকের মাধ্যমে ভাষাগত সম্প্রীতি ও সুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শুরুতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জেলার নাটকের দল এখানে অংশগ্রহণ করে।বীরভূম জেলার কীর্ণাহার এর ওমা নাট্য সংস্থা, নিউ আলিপুর আরোহন নাট্যগোষ্ঠী, এসো নাটক শিখি, শোভাবাজার প্রতিবিম্ব, শান্তিপুর উড়ান, গড়ফা হুজুগে নাট্যগোষ্ঠী, কল্লোল বরানগর, কিনাক নাট্যদল, এস এম রশিদ থিয়েটার গ্রুপ, বারুইপাড়া নান্দী সূত্র কালচারাল সোসাইটি, থিয়েটার ফর্মেশন পরিবর্তক, ইছাপুর সন্ধিক্ষণ এবং ডটস গ্রুপ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

প্রায় প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ দর্শকদের হর্ষধ্বনি এবং করতালিতে নাটকগুলি মুখরিত হয়ে ওঠে। সুস্থ নাট্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কলাক্রান্তি যে সংস্কৃতি আন্দোলনের বার্তা বয়ে আনে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। কলাক্রান্তি এইভাবে নাট্য সংস্কৃতিকে বয়ে নিয়ে যাবে এমন আশা করি। নাট্য প্রেমী মানুষের মধ্যে নাট্য সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে কলাক্রান্তির অগ্রগণ্য ভূমিকা ধন্যবাদের যোগ্য। এই নাটকের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে শনিবার দিন, শেষ হয় রবিবার দিন রাতে। এই প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকার করে তাদেরকে আর্থিক পুরস্কার ও সুদৃশ্য মেমোরিয়াল শিল্ড দেওয়া হয়। তাছাড়া বেস্ট অভিনেতা একটা বেস্ট অভিনেত্রী বেস্ট পরিচালক সহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

Related News

Also Read