কালীপুজোয় এ বার উৎসবে গা ভাসানোর সময় নেই বাংলার উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষের। ভরা কটালে উত্তাল দিঘায় সমুদ্রের জলরাশিও উত্তাল৷ এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে দিঘা-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বেশ কয়েকটি জায়গায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিরাপদ জায়গায়।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে, সমুদ্রের উপর দিয়ে ঘন্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে সিত্রাং। একইসঙ্গে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হওয়ার সর্তকতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দুই মেদিনীপুরে ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে তাজপুরে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকায়, বোল্ডার ফেলে বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে। যাতে জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ২৫ অক্টোবর ভোরের দিকে এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের তিনকোনা দ্বীপ এবং বরিশালের নিকটবর্তী সন্দ্বীপের মধ্যবর্তী অংশে আছড়ে পড়বে।

এরই মধ্যে দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বর্তমানে সাগরদ্বীপ থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে সিত্রাং। অন্যদিকে বাংলাদেশের বরিশালের থেকে ৫২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। কালীপুজোর আনন্দে বাধ সাধল সাইক্লোন। সূত্র মারফত খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৯৫০০-রও বেশি বাসিন্দাকে সরানো হয়েছে এবং পাথরপ্রতিমা, গোসাবা অঞ্চলের বাসিন্দাদেরই আশ্রয় শিবিরে স্থান দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ, মিনাখা, সন্দেশখালির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন’। জেলাশাসকের কথায়, দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, রামনগর সহ উপকূল অঞ্চলের ১৪ হাজার মানুষকে আশ্রয় শিবিরে আনা হয়েছে। সকাল থেকেই মাইকিং ও টহলদারি চলছে নদী তীরবর্তী এলাকায়। এদিকে বিপদ এড়াতে হলদিয়ার টাউনশিপ থেকে নন্দীগ্রাম নদীপথে খেয়া পারাপারের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাঁচাবাড়ির বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি বুঝে উঁচু পাকা আস্তানায় যাওয়ার জন্য।






