রোমহর্ষক ভাবে দু বছরের শিশু সন্তানকে খুন এবং তার মাকে খুনের চেষ্টা অভিযোগে অভিযুক্ত এর সাজা ঘোষণা করলো কাঁথি মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্রাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নুরুজ্জামান আলী। বিচারক বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত অনুপ বরকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমান। অনাদায় পাঁচ মাস অতিরিক্ত কারাবাস।
ঘটনা সূত্র থেকে জানা যায় ২০১৯ সালে ২২ আগস্ট জুনপুট উপকূলীয় থানার শৌলার পশ্চিমে মছলন্দপুর এর কাছে সন্ধ্যা ৬-৩০ টা নাগাদ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল। সূত্রের খবর শৌলার বাসিন্দা অনুপ বর কাঁথি ৩ ব্লকের বিলাসপুর ঘাটের কাছে একটি ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করতো। কাঁথি ৩ ব্লকের ওলমা গ্রামের গৃহবধূ শিবানী মাইতি সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অনুপ বর কাঁথি রেল স্টেশনের কাছ থেকে বাইকে করে শিবানী এবং তার দুই বছরের পুত্র সন্তানকে নিয়ে যায় শৌলার কাছে মসলন্দপুরে। অনুপের কাছে লুকিয়ে রাখা ছুরি বার করে। প্রথমে শিবানীর গলায় ওই ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে।প্রাণভয়ে শিবানী কিছু দূরে ছুটে পালিয়ে যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে থেকে যায় শিশু সন্তান। অনুপ ওই শিশু সন্তানের হাত-পা বেঁধে গলায় চুরির আঘাত করে খালের জলে ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পরে শিবানী চিৎকার করে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায়নি তার সন্তানকে। বুঝতে পেরে খালের জলে ঝাঁপ দিয়ে শিশু সন্তানকে উপরে তোলে আনে এবং চিৎকার করে। ততক্ষণে অনুপ চম্পট দেয়। শিশু সন্তানকে তুলে আনলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। শিবানীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে।
স্থানীয়রা আহত শিবানী ও তার শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক শিশু কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসায় শিবানী সুস্থ হয়। জুনপুট উপকূলীয় থানায় ৪৮/১৯ নম্বরে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ পেয়ে তদন্তকারী অফিসার সঞ্জীব দত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেন।
মামলা সরকারি সিনিয়ার প্যানেল প্লিডার বেণীমাধব বেরা এই মামলার ৪৮ জনের মধ্যে ৩৫ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করে সুচারুভাবে মামলাটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। দীর্ঘ শওযাল জবাবের পর বুধবার কাঁথির ফাস্ট ট্রাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নুরুজ্জামান আলী ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ২০১ ধারামতে এই মামলায় অভিযুক্ত অনুপ বর কে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন।বৃহস্পতিবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করলেন। ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩২৬ ধারা মতে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০০ টাকা জরিমান। অনাদায় দুমাস অতিরিক্ত কারাবাস। ২০১ ধারামতে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড ১০০০ টাকা জরিমান। জরিমানা অনাদায় অতিরিক্ত এক মাস কারসবাস।৩০৭ ধারা মতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমান। জরিমানা অনাদায় তিন মাস অতিরিক্ত কারাবাস। ৩০২ ধারা মতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমান। জরিমানা অনাদায় পাঁচ মাস অতিরিক্ত কারাবাস ঘোষণা করলেন বিচারক। সিনিয়র আইনজীবী বেণীমাধব বেরা বলেন সমস্ত দন্ড একসঙ্গে চলবে। তিনি বলেন এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার হলে সমাজে অপরাধ কমবে। শুধু তাই নয় অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পাবে। সুচারুভাবে মামলাটি পরিচালনা করার জন্য সিনিয়র প্যানেল প্লিডার বেনীমাধব বেরা কে অভিনন্দন জানিয়েছেন অ্যাডিশনাল পি পি মঞ্জুর রহমান খাঁন।
তিনি বলেন এই সমস্ত বিচার দ্রুত করতে পারলেই অপরাধীরা ভয় পেত। তবুও এই ধরনের বিচার হলে সমাজে অপরাধের সংখ্যা কমবে। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন এই ধরনের বিচার গুলি যাতে দুটো নিষ্পত্তি হয় তার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের। অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করায় শিবানী মাইতি খুশি বলে জানা গেছে।





