স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ :-শ্রীরামকৃষ্ণ কখনও নেতিবাচক কোন কথা বলতেন না। কিন্তু তিনি ভিতরে জ্বালিয়ে দিতেন চেতনার আগুন। সেই আগুনে নিরন্তর দগ্ধ হতে হতে অগ্নিশুদ্ধ হয়েছিলেন গিরিশচন্দ্র। ঠাকুর তাঁকে বললেন না___’তুমি মদ খেও না।’ বরং বলেছিলেন : ‘ খাও না, খাও না, কদিন খাবে? শুধু খাওয়ার আগে মাকে নিবেদন করে খেও’। পরবর্তীকালে দেখা গেল, গিরিশচন্দ্র মদ স্পর্শ করতে পারছেন না। মদ মাকে কেমন করে দেবেন? ভেঙ্গে ফেলেলন মদের পাত্র।
শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন না___’বারাঙ্গনা গৃহে যেও না’। তিনি বললেন : “‘ মন নিয়ে কথা। মনেই বদ্ধ, মনেই মুক্ত। গিরিশচন্দ্র বারবনিতা-পল্লীতে যাচ্ছেন, কিন্তু সেখানে থাকতে পারছেন না। ভিতরে এমন অন্তর্জ্বালা হতে লাগলো যে, আর সেখানে থাকতে পারলেন না। উন্মত্তের মতো দক্ষিণেশ্বরে ছুটে এসে ঠাকুরের ঘরে ঢুকে তাঁকে বললেন, ‘এ তুমি আমার কি করলে ঠাকুর?’ তাঁর মুখ থেকে সব কথা শুনে শ্রীরামকৃৃষ্ণ খলখল করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন। বললেন: ‘একি ঢোঁড়া সাপে তোকে ধরেছে রে শালা? তোকে যে জাতসাপে ধরেছে___ পালিয়ে বাসায় গেলেও মরে থাকতে হবে।’

যে মানুষটি বলেছেন___ ‘ আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পাপী’, তাঁর জীবনে আমরা কি দেখছি? শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন : আমি তো তোমাকে মদ খেতে বারণ করিনি? কিন্তু তুমি খেতে পারলে না। আমি তো তোমাকে বারাঙ্গনা গৃহে যেতে নিষেধ করিনি। তুমিই তো সেখানে গিয়ে থাকতে পারলে না। কেন পারলে না জান? তোমার ভিতরে আমি আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছি। অগ্নির নিরন্তর দহন জ্বালা সেখানে। সাধ্য কি তোমার পতনের সেই গভীর গহ্বরে নিজেকে তুমি নিমজ্জিত করবে! তোমাকে প্রতি মুহূর্তে পুড়িয়ে পুড়িয়ে আমি খাঁটি সোনা করে নেব। তোমাকে আমি অগ্নিশুদ্ধ করে নেব। জগৎ তোমাকে দেখে অবাক হয়ে যাবে’।
শ্রীরামকৃষ্ণের দংশন এমনই মারাত্মক। গিরিশচন্দ্রের জীবন ও চরিত্রের পরিবর্তন জগতের কাছে শ্রীরামকৃষ্ণের ‘আত্মা-জাগানিয়া’ ভূমিকার মহা-নিদর্শন।






