Select Language

[gtranslate]
১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২৯শে মার্চ, ২০২৬ )

নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুন, প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের বনধের ডাক

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে আসার কথা রয়েছে। আর তার মাত্র একদিন আগেই রবিবার গভীর রাতে নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। এই হামলার জেরে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতিও গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।নন্দীগ্রামেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর প্রাণঘাতি হামলা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে নন্দীগ্রাম জুড়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বনধ ডেকেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দোষীরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এই বনধ চলবে বলেই দাবী জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বরা।   

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতের দিকে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭নং জালপাই এলাকায় তৃণমূলের নেতা কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। স্থানীয় বুথ সভাপতি গুরুপদ মন্ডল ও তৃণমূল কর্মী বিষ্ণুপদ মন্ডলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক কোপানো হয়। এর জেরে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন দু’জনে। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা বেরিয়ে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় বিষ্ণুপদকে তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত্রি দেড়টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে গুরুতর জখম গুরুপদ মণ্ডল বর্তমানে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বাপ্পাদিত্য অভিযোগ করেছেন,বিজেপির দুষ্কৃতীরাই এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে”। বাপ্পাদিত্য জানান, রবিবার তমলুক কার্ড ব্যাঙ্কের পরিচালন কমিটির নির্বাচন ছিল। সেই নির্বাচনে  সন্ত্রাস চালিয়েছিল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ।তৃনমূল নেতা অভিযোগ করেন দিব্যেন্দু অধিকারী ও মেঘনাদ পালের উপস্থিতিতেই এই হামলা হয়। ব্যাপক বোমাবাজি করে এই নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। সেই ভোটে জেতার পরেই খেজুরি সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে দুষ্কৃতীদের এনে নন্দীগ্রামে ব্যাপক সন্ত্রাস চালাতে শুরু করেছে বিজেপি। রবিবার রাতে সেই দুষ্কৃতীরা একযোগে তৃণমূল দুই নেতা কর্মীর ওপর প্রাণঘাতি হামলা চালিয়েছিল বলে দাবী জানিয়েছেন বাপ্পাদিত্য। তিনি জানান,এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য নন্দীগ্রামে বনধ পালনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।

এই হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতৃত্বরা। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক মেঘনাদ পালের দাবী,এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বলেন পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হামলা বলেই আমরা প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। মেঘনাদের দাবী,দু’জনেই মদ্যপ ছিলেন বলে শুনেছি। ওরা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করে এই কান্ড ঘটিয়েছে। তবে এই ঘটনায় যে বা যারা জড়িত তা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার দুপুরে এই সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম ১নং ব্লকের কাঞ্চননগর গ্রাম। সেখানে বুথ দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বোমাবাজি হয়েছিল। পুলিশের সামনেই রীতিমতো বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে গায়ের জোরে বুথ দখলের। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধেও বোমাবাজির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। বোমার ঘায়ে অল্পবিস্তর জখম হয়েছিল  সংবাদমাধ্যমের দুই কর্মীও। ব্যপক বোমাবাজির পর এই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের ৭টি আসনেই জয়লাভ করেছিল বিজেপি। আর তার কয়েকঘন্টার ব্যবধানেই তৃণমূলের দুই নেতা কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্রমেই সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল।

Related News

Also Read