Select Language

[gtranslate]
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ শনিবার ( ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ )

নাটমন্দিরের সুর-নৃত্যের মহা নিবেদন ছুঁয়ে গেল কলকাতার হৃদয়

নববর্ষের শুভ উপলক্ষে গড়িয়াহাটের জ্ঞান মঞ্চে নাটমন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল এক আবেগঘন ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সন্ধ্যা “স্বপ্নলোকের বিদেশিনী – আমার মা”। অনুষ্ঠানটি ছিল আয়োজকের প্রয়াত মা শ্রীমতী স্বপ্না ঘোষের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য—যাঁর সঙ্গীতপ্রেম ও নবপ্রজন্মকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা আজও বহু মানুষকে পথ দেখায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী Asha Bhosle-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। তাঁর অসামান্য অবদানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি সঙ্গীত নিবেদন পরিবেশিত হয়, যা সন্ধ্যার আবহকে করে তোলে গভীর ও মর্যাদাপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল মা ও সন্তানের চিরন্তন বন্ধন—ত্যাগ, ভালোবাসা এবং আগামী প্রজন্মের মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের গল্প। প্রতিটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই অনুভূতি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।

সন্ধ্যার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ

নাটমন্দিরের ছাত্রছাত্রীদের কাথক নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কৃষ্ণ বন্দনা দিয়ে শুরু করে রাস রচত বৃজ মে, নিরততা ঢং, এবং তিনতাল ও ঝাপতাল-এর বিশুদ্ধ নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শ্রীকৃষ্ণের লীলাকথা অবলম্বনে এই পরিবেশনাগুলি ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের গভীরতা ও সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।

অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনাও ছিল বিশেষ আকর্ষণ:

দীপন মৈত্রর ভরতনাট্যম নৃত্য পরিবেশনা
তৃণা রায় ও তাঁর দলের কাথক প্রযোজনা “দিবাছন্দা”
রুদ্রাভ নিয়োগী ও দলের উপস্থাপনায় “নিভৃত প্রাণের দেবতা”

বিশেষ পর্ব “হৃদয়ের কুহু তান” ছিল Rabindranath Tagore-এর গানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত নৃত্যনির্ভর উপস্থাপনা, যা গুরু স্বাগতলক্ষ্মী দাশগুপ্তর তত্ত্বাবধানে পরিবেশিত হয়। কবিতা, সুর ও নৃত্যের এক অনন্য মেলবন্ধন এই পর্বকে করে তোলে অত্যন্ত আবেগময়।

সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল লাইভ মিউজিক ও নৃত্যের সমন্বয়ে নির্মিত প্রযোজনা “তালাশ”, যেখানে কণ্ঠসঙ্গীত, তবলা, সরোদ ও অভিব্যক্তিমূলক নৃত্যের মাধ্যমে শিল্পের এক অনুসন্ধানী যাত্রা তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও “অর্পণ” শীর্ষক পরিবেশনা গুরু বিদুষী দুর্গা আর্যার নেতৃত্বে পরিবেশিত হয়, যা অনুষ্ঠানে আনে আধ্যাত্মিকতা ও গভীর আবেগের ছোঁয়া।

সঙ্গীত পরিবেশনায় প্রিয়স্মিতা ঘোষ শাস্ত্রীয় গান পরিবেশন করেন এবং তাঁকে হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেন অনুসীলা ঘোষ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রচার

অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর প্রচারের মাধ্যমে। California Television Global, এই অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মিডিয়া সহযোগী হিসেবে, এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বিশ্বের ১৫টি দেশে সম্প্রচার করছে। এর ফলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের এই অনন্য সন্ধ্যা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যাচ্ছে।

সম্মাননা প্রদান

অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় কলায় অসামান্য অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:

গুরু সুশ্মিতা মিশ্র
কাজল মিশ্র রায়
বিদ্বান শঙ্কর নারায়ণস্বামী
গুরু প্রদীপ্ত নিয়োগী
সহশিল্পীরা

সন্ধ্যার সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেন:

সুনন্দ মুখার্জি – সরোদ
প্রতীক মুখার্জি – তবলা
সঞ্চিতা পাল – কণ্ঠ
প্রিয়স্মিতা ঘোষ – কণ্ঠ
অরুণিমা সেনগুপ্ত – পড়ন্ত
শিল্প ও আবেগের উত্তরাধিকার

এক আবেগঘন বার্তায় আয়োজক জানান, তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন এমন এক সঙ্গীতময় পরিবারে জন্মগ্রহণ করতে পেরে এবং গুরুর কাছ থেকে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়ে। এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একজন মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, বরং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের চিরন্তন ঐতিহ্যেরও উদযাপন।

সবশেষে, শিল্পী, শিক্ষার্থী, প্রযুক্তিবিদ, আলোকচিত্রী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Related News

Also Read