Select Language

[gtranslate]
১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ শনিবার ( ২৮শে মার্চ, ২০২৬ )

।পরকীয়া ।।

( সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা)

সুদেষ্ণা বাসু

বিষয় টা পড়েই সবাই নড়েচড়ে বসবে জানি। এই পরকীয়া প্রেম টার আমি একমাত্র সাক্ষী ছিলাম ভাগ্যের ফেরে। সকলে যে যা পারো ভেবে নাও আর আমি সেই ফাঁকে বরঞ্চ গল্পে ঢুকে পড়ি ।

শ্রাবণ মাস। ছুটির দিন। বেশ কদিন পর পর বৃষ্টি পড়ায়, আবহাওয়া দারুণ । মেঘলা আকাশ,ঠান্ডা বাতাস,মনটাকে এতটাই ফুরফুরে করে দিয়েছিলো যে আমার পতিদেব ঘুম থেকে উঠেই দুই ছেলেকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যাবার বায়না জুড়লেন । (কলকাতায় তার প্রিয় জায়গার মধ্যে চিড়িয়াখানা একটি।)
আমি দলে একা পড়ে যাওয়ায়, বৃষ্টি পড়তে পারে,ভিজতে হতে পারে এসব কোনো কথাই কেউ গ্রাহ্য ই করলো না।
কোনোরকমে একটু জলখাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম আমরা রেনকোট, ছাতা আর আমার ব্যাগটাকে সঙ্গী করে।

ভীড় বিহীন চিড়িয়াখানা দেখতে বেশ ভালোই লাগলো।পশুপাখিরাও বেশ খোশমেজাজে ছিলো সেদিন। পাখিদের শিসের আওয়াজে বাতাস সরগরম হয়ে উঠেছিলো।কোনো পশুকেই ভীড়ের দিনের মতন কষ্ট করে খুঁজে বের করে দেখার দরকার পড়ছিলো না। বরঞ্চ ওনারাই নিজেদের বাসস্থান থেকে বেড়িয়ে আসছিলেন আমাদের চিড়িয়াখানায় ঘুরে বেড়াতে দেখে। খাঁচার জালগুলোই শুধু যেটুকু ব্যাবধান ধরে রেখেছিলো আমাদের মধ্যে।
দুপুরের দিকে বেশ মেঘ জমতে শুরু করলো।

আমাদের ঘোরা, দেখাও, তখন প্রায় শেষের দিকে।
এমন সময় ছোটো ছেলে ( বছর ৩ বয়েস হবে তার তখন) জানালো তার খুব জোরে পটি পেয়েছে।বেচারা অনেকক্ষণ ধরেই নাকি চাপবার চেষ্টা করছিলো,আর পারছেনা সে। চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে জায়গাটায় আমরা আছি, সেটা চিড়িয়াখানার বাথরুমের থেকে বেশ অনেকখানি দূরে। অবস্থা এমনই বেগতিক যে কোনো ভাবেই বাথরুম অবধি তাকে নিয়ে যাওয়া যাবেনা।
কোনো উপায় না দেখে ভীড় বিহীন চিড়িয়াখানার একটা ঝোপের পাশই বেছে নিতে হলো। ব্যাগে ২ লিটার জলের বোতল আর ফেস ওয়াইপস্ দিয়ে বাকি কাজ সুষ্ঠ ভাবে সারতে পারবো এই ভরসায় নিশ্চিন্ত হলাম।

ছোটো পুত্র তার কাজ সারতে সবে বসেছে হঠাৎ শুনি ‘ঝিকঝিকঝিকঝিক’ আওয়াজ ভেসে আসছে একটা খাঁচার ভিতর থেকে। এগিয়ে গেলাম সেদিকে আর মোহিত হয়ে গেলাম পেখম মেলা ময়ূরের নাচ দেখে। কি অপূর্ব সেই দৃশ্য, যে না দেখেছে সে বুঝবেনা।
বিশাল বড় পেখম টা তালে তালে নেচে ওঠায় ওই ঝিকঝিক আওয়াজ টা হচ্ছিলো বুঝতে পারলাম।বেশ কিছুখন ধরে নাচ চললো।

তবে, সে নাচের দর্শক কিন্তু আমি একা ছিলামনা।ছিলো সেই ময়ূরের পাশের খাঁচায় থাকা এক ময়ূরী ও । আসলে সেই ময়ূরীকেই আকর্ষণ করার জন্য ই ময়ূরটা তার নাচ প্রদর্শন করছিলো।আমি তো ছিলাম ফাউ দর্শক।
নাচ দেখছি আর ভাবছি ‘আহারে! এমন দিনে ময়ূর ময়ূরী টাকে আলাদা আলাদা রেখেছে কেনো? ‘
ময়ূরী ও বেশ অভিভূত হয়ে নাচ দেখে ময়ূরের দিকে এগোচ্ছিলো…এমন সময় দেখি ময়ূরের নিজের খাঁচার মধ্যে র একটা ঝুপড়ি র মধ্যে থেকে আর এক ময়ূরী বেড়িয়ে এলো।



আর! বলবোকি! তৎক্ষনাৎ এক মুহূর্তে র মধ্যে ময়ূর তার পেখম গুটিয়ে ফেললেন। অত সুন্দর পেখম টা লেজের মতন হয়ে গেলো। আর তিনি গটমট করে খাঁচার অন্য প্রান্তে গিয়ে পায়চারী করা শুরু করলেন।পাশের খাঁচার ময়ূরীটা ও দেখি অন্য দিকে গিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।আর ময়ূরের নিজের খাঁচার ময়ূরী টা বেশ গম্ভীর ভাবে পরিবেশ পরিস্থিতির পর্যাবেক্ষণ করায় রতো হলো।

অত সুন্দর মোহময় দৃশ্য, পরিবেশ বদলাতে দু’সেকেণ্ড ও লাগলো না।
আমারও বুঝতে একটুও অসুবিধা হলো না যে পাড়ার আনাচেকানাচে চলা পরকীয়া প্রেমের থেকে চিড়িয়াখানার এই পরকীয়া প্রেম কোনো অংশেই কম নয়। পাশের খাঁচার ময়ূরী কে নাচ দেখিয়ে যে সন্তুষ্টি পাওয়া যায়, নিজের খাঁচার ময়ূরী কে নাচ দেখিয়ে সে মজা নেই।

পুরুষ বন্ধু রা দয়া করে রেগে যেও না আমার এ লেখায় কারণ আমি শুধু মাত্র একটা সত্য ঘটনা তুলে ধরেছি কিন্তু তা বলে নারীরা যে দুধে ধোওয়া তুলসীপাতা তা কখনোই বলতে চাইনা বা মানিনা।

সৌজন্যে প্রতিলিপি

Related News

Also Read