আজ থেকে ৫৪ বছর আগে চাঁদের বুকে নেমে পৃথিবীর মানুষকে চমকে দিয়ে নীল আর্মস্ট্রং মানবজাতির ইতিহাসকে স্মরনীয় করে রেখেছেন।
১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই ‘স্যাটার্ন ৫’ রকেটে চেপে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল ‘অ্যাপোলো ১১’। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছিল অ্যাপোলো ১১-র। তিন জন মার্কিন মহাকাশচারী সে দিন চাঁদের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। নিল আর্মস্ট্রং, এডুইন অলড্রিন এবং পাইলট মাইকেল কলিন্স। চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং। তার পরে নামেন এডুইন অলড্রিন। কলিন্স মহাকাশযানেই ছিলেন। চাঁদে নামেননি।
১৯৩০ সালে ৫ আগষ্ট আমেরিকার ওহায়োতে জন্মে ছিলেন নীল আর্মস্ট্রং ।তিনি ভিওলা লাউসি ও স্টিফেন কনিগ আর্মস্ট্রং এর সন্তান। তিনি স্কটিশ বংশোদ্ভূত।তার ভাই ‘ডিন’ এবং বোন ‘জুন’।ছয় বছর বয়সে তার বাবার সাথে প্রথম আকাশে উড়েন। তারপর থেকেই বিমান চালানোর প্রতি তার ঝোঁক তৈরী হয়।
১৯৫০’র দশকে কোরিয়া যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধ বিমান চালান। এরপর ১৯৬২ সালে তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্র বা নাসায় যোগ দেন।
এপোলো ইলেভেন ছিল তার সর্বশেষ মহাকাশ মিশন। ১৯৭১ সালে নাসা ছেড়ে দিয়ে মি: আর্মস্ট্রং এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
আর্মস্ট্রং নাসা’র দ্বিতীয় মহাকাশচারী দলের মহাকাশচারী কর্পসে ১৯৬২ সালে নির্বাচিত হয়ে যোগদান করেন। তিনি তার প্রথম মহাকাশযাত্রা করেন জেমিনি-৮ মহাকাশযানের “কমান্ড পাইলট” হিসেবে। তিনি ছিলেন নাসা’র প্রথম বেসামরিক মহাকাশচারী।
চাঁদের মাটিতে পা রেখে নীল আর্মস্ট্রংরা বদলে দিয়েছিলেন সভ্যতার ইতিহাস। তার পর থেকে একাধিক বার চাঁদে পাড়ি দিয়েছে মানুষ। আর প্রতি বারই নতুন নতুন তথ্য এসেছে চাঁদ থেকে। সে দিন চাঁদে মানুষের সেই প্রথম পদার্পণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ছিল মানব ইতিহাসের সেই স্মরনীয় দিন।
নীল আর্মস্ট্রং এবং তার সহযোগী নভোচারী এডউইন অলড্রিন চাঁদের বুকে প্রায় তিন ঘন্টা হেঁটে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ছবি তোলেন।
চাঁদে পা ফেলেই আর্মস্ট্রং তার বিখ্যাত উক্তিটি করেন,বলেন “এটি একজন মানুষের জন্য অতি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ; কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।”আর্মস্ট্রংয়ের অনুমোদিত জীবনী, ফার্স্ট ম্যান: দ্য লাইফ অফ নীল এ আর্মস্ট্রং ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
কর্নারি ধমনীর রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আর্মস্ট্রংয়ের বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল যদিও তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গিয়েছিল। এর মধ্যেই ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট, ওহাইওর ওপেনের সিনসিনাটিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।জীবনের শেষ দিন অবধি দেশে-বিদেশে বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন আর্মস্ট্রং
তাঁর প্রয়ানে হোয়াইট হাউস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যাতে রাষ্ট্রপতি ওবামা আর্মস্ট্রংকে “আমেরিকান নায়কদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম-কেবল তাঁর সময়ের নয়, সর্বকালের” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
সারা পৃথিবীর মানবজাতির প্রতিনিধি হয়ে সর্ব প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখা এই মানুষটিকে এখন সংবাদ পরিবার জানায় শতকোটি প্রণাম







