Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

রূপায়ণ


জয়ন্ত অধিকারি

“বাপরে, স্টেশনে এত ভিড় যে হাঁটা যাচ্ছিল না ঠিক করে। এই, তুমি ঠিক করে বসেছ তো? দীপা কোথায় গেল?”

“ওই তো। ওপরে বসে গেছে। তুমি এত টেনশন করো কেন? স্টেশনে ভিড় তো হবেই।”

“লাগেজ নিয়ে তোমাদের দুজনকে সামলে ওই ভিড় ঠেলে আসা – তুমি আর কী বুঝবে? সব ব্যাগগুলো এসেছে তো? গুণে দেখে নিই একবার।” সবকিছু দেখে নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে অবশেষে লোয়ার বার্থের জানলার ধারের সিটে বসে পড়লেন সুধীন। ট্রেনটা নড়ে ওঠে।

সেই সময়েই একজন প্ল্যাটফর্মে দৌড়তে দৌড়তে এসে দরজার সামনের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়ে। ভদ্রলোককে খুব চেনা মনে হচ্ছে। কিন্তু…
ওই ভদ্রলোক টিকিট দেখে নম্বর মিলিয়ে এসে বসে পড়েন সামনের সিটে।

সুধীন হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন ওনার দিকে। সামনের ভদ্রলোক নিজের লাগেজ রেখে দিয়ে সুধীনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “কিছু বলবেন?”

“নন না।” তারপরেই নিজেকে সামলে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “অদিতি,টিকিট চেক হয়ে গেলেই ডিনার সেরে ফেলতে হবে। তারপরেই ঘুম। সকালেই নেমে পড়ব। পাহাড়, পাহাড় ডাকছে আমাদের। সবাইকে। হেহেহে।”

কিন্তু মনের ভেতরের খচখচানিটা থেকেই যায়। কোথায় যে দেখেছি ওনাকে…কেন মনে করতে পারছি না!

পরের দিন সকালে ট্রেন থামার পরে সবাই নেমে আসে। সামনের সিটের ভদ্রলোক ও ওখানেই দাঁড়িয়েছিলেন। ফোনে কারোর সাথে কথা বলছিলেন। আর থাকতে না পেরে, অদিতি আর দীপাকে অপেক্ষা করতে বলে, সুধীন ভদ্রলোকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা, আপনাকে কি কোথাও…”

“রূপাকে মনে পড়ে সোনু? যাকে তুমি খুব ভালবাসতে?”
চমকে ওঠেন সুধীন। রূপা? সে তো হঠাৎ করে হারিয়ে গিয়েছিল। তাহলে ইনি রূপার ভাই? দাদা?

ভদ্রলোক বলে চলেন, “সোনু কে ভালবাসতে গিয়ে রূপা বুঝতে পেরেছিল ও একটা খাঁচার মধ্যে বন্দী। শরীরটা মেয়ের হলেও, আসলে ও একটা ছেলে। তাই…রূপা আজ রূপায়ণ।”

Related News

Also Read