প্রদীপ কুমার সিংহ
বৃদ্ধ বাবা মাকে ঘুনধর ছেলে স্টেশনে রেখে দিয়ে বেপাত্তা হয়ে যায়। এমনই ঘটনা কথা জানা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার রায়চক নিবাসী গোবিন্দ পুরকাইত (৭৫) ও কমলা পুরকাইত (৬৯) বৃদ্ধ দম্পতিকে বৃহস্পতিবার সকালে বারুইপুর স্টেশনে রেখে দিয়ে যায় তার গুণধর ছেলে জয়ন্ত পুরকাইত। মা ও বাবাকে বারুইপুর স্টেশনে এক নম্বর প্লাটফর্মে একটি প্লাস্টিকের ওপর বসিয়ে দিয়ে হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে চলে যায় ধর্মতলা কাজ করতে। ওই বৃদ্ধা দম্পতিকে তার ছেলে বলে রাতে যাওয়ার সময় বাড়ি নিয়ে যাব। কিন্তু সে আর দেখা মেলেনি। যদিও গোবিন্দ বাবু বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে পারেনা এবং কমলা দেবী ও অসুস্থ। কমলা দেবী বলেন স্বামী স্মৃতি হারিয়েছেন।

সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন তার কাছে ৫০০ টাকায় এবং মোবাইলফোন ছিল। কিন্তু তা স্টেশন থেকে চুরি হয়ে যায়।সারাদিন সেখানে বসে ছিল। সারাদিন মুড়ি ও চানাচুর খেয়ে কাটিয়েছে। এই খবরটি বারুইপুরে স্টেশনের জিআরপির ওসি প্রতাপ চন্দ্রের পাত্রের কাছে গেলে তিনি তড়িঘড়ি ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে।

প্রথমে ওই দম্পতিকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে ও পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় ।সেখানে তাদের চিকিৎসা চলে। গুলো ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তাদেরকে শিয়ালদা আদালতে নিয়ে যায় বারুইপুর স্টেশনে জিআরপির পক্ষ থেকে।

আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী জিআরপির আধিকারিকরা বারুইপুর পৌরসভার পৌরপিতা শক্তি রায়চৌধুরী সঙ্গে কথা বলে বৃদ্ধ দম্পতিকে বারুইপুর পৌরসভার সাহপাড়ায় বিবেকানন্দ আরবান( আশ্রয়হীনদের হোম) হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। গুণধর ছেলের এই কীর্তিতে তাজ্জব রেলযাত্রীরা। অনেকেই বলেন কি করে ছেলে বৃদ্ধ বাবা মাকে স্টেশনে রেখে চলে যান? রেলযাত্রীদের দাবি পুলিশ গুণধর ছেলেকে খুঁজে বার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুক আদালতের মাধ্যমে।





