শিক্ষাবিদ দীনেন্দ্রনারায়ণ মুন্সীর ১৫তম বার্ষিক প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে ১৭ জুলাই ব্যারাকপুরে তাঁর স্মরণানুষ্ঠানে প্রয়াত দীনেন্দ্রনারায়ণ মুন্সীর উদ্দেশে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তার একমাত্র কন্যা সাংবাদিক ও গায়িকা শুক্তি মুন্সী অনাথ আশ্রমের ৫০ জন অনাথ ছেলেমেয়েকে অন্নদান এর ব্যবস্থা করে । তাঁর একমাত্র সন্তান সাংবাদিক ও গায়িকা শুক্তি মুন্সী জানিয়েছেন, ব্যারাকপুর ও স্থানীয় মানুষ ছিল বাবার একান্ত কাছের জন। তাঁদের লেখাপড়ার কথা ভেবেই মা রণিতা মুন্সী “দীনেন্দ্রনারায়ণ মুন্সী স্মৃতি পাঠাগার” স্থাপন করেছিলেন।
দীনেন্দ্রনারায়ণ মুন্সীর জন্ম ১৯৪৮ সালে কৃষ্ণনগরে। কৈশোরে চলে আসেন ব্যারাকপুরে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মার্কসবাদী কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য হন। তিনি প্রমোদ দাশগুপ্তর ভাবধারায় গড়ে ওঠেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন রাজ্যের হায়ার সেকেন্ডারি কাউন্সিলের উপ-সচিব (পরীক্ষা)। ছাত্র-শিক্ষক মহল ছিল তাঁর প্রাণের মানুষ। শিক্ষামন্ত্রী কান্তি বিশ্বাসের বিশেষ স্নেহভাজন শ্রীমুন্সী কর্মজীবনের বিশেষ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য শিক্ষা মহলে আজও স্মরণীয়।

পাশাপাশি তার সহধর্মিণী
গৃহবধূর পরিচয়ে বাঁচতে চান নি সমাজকর্মী রণিতা মুন্সী। জনকল্যাণমূলক কাজে শৈশব থেকেই উৎসাহী ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি মানুষের কল্যাণে নানাবিধ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী জীবনে স্বামী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দীনেন্দ্র নারায়ণ মুন্সীর বলিষ্ঠ প্রেরণা আর নিবিড় সহযোগিতায় রণিতা দেবী ঘর সংসারের দায় দায়িত্ব সামলে কাজ করেছেন। দক্ষ সংগঠক এবং বাম আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তাঁর ভূমিকা আজও অনেকে স্মরণ করেন।
গত ১৯শে জুন ছিল স্বর্গীয়া রণিতা মুন্সীর ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস ও পঞ্চম প্রয়াণ বর্ষ। ঐ দিন তাঁর স্মৃতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে গত বছরের মতো এবছরও ৩০ জন দুঃস্থ মানুষকে এই অতিমারির সঙ্কটে খাবারের প্যাকেট বিলি করা হয়। উল্লেখ্য, দক্ষ সংগঠক রণিতা মুন্সী গড়ে তুলেছিলেন দীনেন্দ্রনাথ স্মৃতি পাঠাগার। ব্যারাকপুরে এই পাঠাগারটি স্থানীয় মানুষের বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহীত করে চলেছে।







