কাঁথি শহীদ ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা সমিতির উদ্যোগে কিশোর শহীদ ক্ষুদিরামের ১৩৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে দুদিনের কর্মসূচী বুধবার প্রথমদিন সকালে বরিষ্ট নাগরিকদের হাঁটার প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু হয়। কাঁথি দেশপ্রাণ মুর্তির পাদদেশ থেকে ক্ষুদিরাম মূর্তি পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন প্রতিযোগি অংশগ্রহন করে।

সকাল ৮টায় শুরু হয় ক্ষুদিরাম মূর্তিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি দেবকুমার রায়। অতিথিবৃন্দ ছিলেন জগদীশ ঘোড়াই, গৌতম মাইতি, হৃষিকেশ দাস ও কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি। এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ সম্পাদক কেশব দাশ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন অলকা মাইতি জানা , বেলাদত্ত মানিক।

বিকেলের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবকুমার রায়। “ক্ষুদিরামের স্বপ্ন ও আমাদের কর্তব্য” বিষয়ে মূল আলোচনা করেন বনমালী পন্ডা , এছাড়া আলোচনা করেন কিংশুক সাহা, প্রভাত কুমার কলেজের অধ্যক্ষ অমিত কুমার দে। স্বাগত ভাষণ দেন সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন মিঠু দাস। এছাড়া আবৃত্তি পরিবেশন করেন অজিষ্ণু দাস, উদ্ধৃতি করণ। এছাড়া কাঁথি পাবলিক স্কুলের যোগ ব্যায়াম প্রদর্শনী, স্বপন সাহু শ্রুতি নাটক , ঋত ছন্দগোষ্ঠীর কবিতা কোলাজ ও দর্পন নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘কাক চরিত্র’ দর্শক দের প্রশংসিত হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে স্বেচ্ছায়রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার সুকুমার পানিগ্রাহী। বিকালে বিদ্রোহী কবি নজরুলের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সারা বাংলা নজরুল ইসলাম অর্ধশত প্রয়াণ বার্ষিকী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মনোজ গুহ, কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের অধ্যাপক ডক্টর প্রদীপ্ত পঞ্চাধ্যায়ী। আলোচনা সভার পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কাঁথি শহীদ ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন- ” ২০১০ সাল থেকে ১৫ বছর ধরে ঐতিহাসিক কাঁথি শহরে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জীবন সংগ্রাম সমস্ত অংশের জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার জন্য সারা বছর ধরে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। জন্মদিন উপলক্ষে রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিশু-কিশোর শিবির, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, স্কুল ছাত্রদের জন্য ক্ষুদিরাম ফুটবল অনুশীলন কেন্দ্র প্রভৃতির মাধ্যমে ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা সমিতি সারা বছর ধরে ক্ষুদিরামের চিন্তা ও চেতনা প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়ে আসছে। “





