Select Language

[gtranslate]
৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ সোমবার ( ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

কাঁথি হাসপাতালের টেকনশিয়ানকে সম্বর্ধনা

কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে এইচ ডি ইউ বিভাগের টেকনিশিয়ান রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং হাসপাতাল সুপার ডঃ অরূপ রতন করনকে সম্বর্ধিত করলেন হাওড়া জেলার উলুবেরিয়া ডাক সেবক রঘুনাথ বের।

 

উল্লেখ্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ডাক্তারদের ঘোষণা মৃত এক শিশু কন্যাকে প্রাণে বাঁচিয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। এই ঘটনা জানতে পেরে উলুবেরিয়া থেকে ছুটে আসেন ডাক সেবক রঘুনাথ বের। আজ সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে এসে পুষ্পস্তবক ও উপহার সামগ্রী দিয়ে রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং হাসপাতাল সুপার ডঃ অরূপ রতন করন কে সম্বর্ধিত করেন। উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ৫ ফেব্রুয়ারি কাঁথি মহাকুমা হাসপাতালের এইচ ডি ইউ বিভাগের টেকনিশিয়ান এর অদম্য আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার কারণে এক ১৪ বছরের নাবালিকা জীবন ফিরে পেল।

সূত্রের খবর কাঁথি ১ ব্লকের এড়্যাফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা খাতুন(১৪) পারিবারিক সমস্যার কারনে উকুন মারা ঔষধ , প্রেসারের, সুগারের, ঘুমের ঔষধ ও প্যারাসিটামল খেয়ে নেয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি। ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ করে সংজ্ঞা হারায়। সেদিন সকালেই তাকে মাজনা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কাঁথি মহাকুমা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে তমলুকে পাঠায়। তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে বেড না থাকার স্থানীয় সি এম সি নার্সিংহোমে ভর্তি করে। সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। বলা হয় কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত করার জন্য।

 

সেখান থেকে রোগী টিকে ফেরত নিয়ে এসে কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ জানা কে দেখান। তিনিও বলেন ২০০% নিশ্চিত এই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তখন এইচডি ইউ টেকনিশিয়ান রবিন মন্ডল বলেন রোগীটি বেঁচে আছে। বাড়ির লোকেরা বিশ্বাস করতে চাইনি। সেই কারণে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। রবিনবাবু আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ওই রোগীকে নিয়ে এসে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের এইচডি ইউ তে ভর্তি করেন। চিকিৎসার ফলে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে সাবিনার জ্ঞান ফিরে। পরবর্তীকালে বমি করে এবং বাড়ির লোকেদের চিনতে পারে। তাকে ৭ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বেডে ভর্তি করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছুটি করলে বাড়ি ফিরে আসে ১৪ বছরের সাবিনা। এই ঘটনায় পরিবারের লোক উৎফুল্ল।

 

রবিন বাবুকে পরিবারের লোক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তে কাঁথি শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জুনপুট রাস্তায় কুমোরপুরের প্রশান্ত সরণিতে রবিনবাবুর বাসভবনে গিয়ে পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রশাসক সিদ্ধার্থ মাইতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রতিবেশী তথা সমাজসেবী ও পৌরকর্মী প্রদীপ কুমার মান্না সহ এলাকাবাসী রবিন বাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পুস্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে রবিনবাবুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী।

Related News

Also Read