এলাকার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ড্যানফিট ইন্টারন্যাশনাল-এ “নবদুর্গা নৃত্যম” শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ড্যানফিট ইন্টারন্যাশনাল আয়োজন করে ক্যালিফোর্নিয়া টেলিভিশন গ্লোবাল-এর সহযোগিতায়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ড্যানফিট ইন্টারন্যাশনালের ছাত্রীরা উপস্থাপিত সমবেত নৃত্যের মাধ্যমে, যা পুরো পরিবেশকে ভক্তিময় করে তোলে।
অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায়, কলকাতার ওডিসি নৃত্যশিল্পী অদ্রিজা চৌধুরী প্রথমে যুগ্মদবন্দা পল্লবী পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এরপর কলকাতার ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী অংশিকা দাস “কল্যাণী সুন্দরেশ্বরী” পরিবেশন করে তাঁর আবেগময় অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনায় কলকাতার কথক নৃত্যশিল্পী দেবলীনা লাহিড়ী দুর্গা কবিত্ব ও ভবানী দয়ানী উপস্থাপন করেন এবং তাল ধামার-এর মাধ্যমে চৈত্র নবরাত্রির এই বিশেষ নৃত্য আসরের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এই বিশেষ শাস্ত্রীয় নৃত্য আসরে ভারতের বিভিন্ন শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে নবদুর্গার ঐশ্বর্য, শক্তি ও সৌন্দর্যকে অত্যন্ত আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিটি পরিবেশনায় ভঙ্গি, অভিব্যক্তি ও লয়ের অসাধারণ সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন মিষ্ঠু মুখার্জী ও কল্যাণ ভৌমিক, যাদের দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হয়।
এই অনুষ্ঠানে সমাজসেবী পূর্বী ঘোষ, জ্যাসমিন আদেসরা এবং ড. নিবেদিতা কর পাণিগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন এবং শিল্পীদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর নির্বাচিত অংশ ক্যালিফোর্নিয়া টেলিভিশন গ্লোবাল-এর সহযোগিতায় বিশ্বের ১৫টি দেশে সম্প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে জামশেদপুরের এই শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি পাচ্ছে।
স্থানীয় দর্শকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি করে। উপস্থিত অতিথি ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা শিল্পীদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সকল শিল্পীদের স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য কেবল একটি শিল্প নয়, বরং আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিফলন।





