Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। এক মুসলিম পরিবার ও শ্রীরামকৃষ্ণ ।।

সোনালী ভুঁইয়া :-হাওড়া হইতে বালী পর্যন্ত বাস চলাচল আরম্ভ হইবার
প্রায় তিন মাস পরে একদিন বৈকালে পূজনীয়
শঙ্করানন্দ মহারাজ কলিকাতা হইতে বাসে বেলুড় মঠে
ফিরিতেছিলেন।

কিয়দ্দুর বাসটি আসিবার পর পার্শ্বস্থ
জনৈক সহযাত্রী তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “ আপনি
কি রামকৃষ্ণ পরমহংস মঠের ”? মহারাজজী বলিলেন,
“হাঁ, কিছু বলবেন কি?”

তিনি বলিতে লাগিলেন,

“ বাল্যকালে বাবার নিকট শুনেছি রামকৃষ্ণ পরমহংস
আমাদের যে কি উপকার করেছেন তা মুখে বলা যায়
না। আমরা জাতিতে মুসলমান এবং কামারপুকুর
অঞ্চলে আমাদের বাড়ী। এখন কলকাতার চাঁদনীতে
একটি দোকান আছে। বাবা কয়েক বৎসর হল গত
হয়েছেন।

“বাবা বলেছিলেন, আমাদের তখন মধ্যবিত্ত অবস্থা ও
তদুপযুক্ত ঘরদ্বার খামার ধানের গােলা ইত্যাদি ছিল।
কিন্তু দৈবদুর্বিপাকে প্রতি বৎসর আগুন লেগে সমস্ত
পুড়ে যেত। এইরূপ ২/৩ বার হওয়ার পর একদিন
জনৈক ব্রাহ্মণবন্ধুর নিকট আমার দুঃখের কাহিনী
বলছিলাম। সে সময়ে রামকৃষ্ণ পরমহংস ঐ পথ
দিয়ে লােকজন পরিবেষ্টিত হয়ে কীর্তন করতে করতে
গ্রামান্তরে যাচ্ছিলেন। আমার বন্ধু তাঁকে অদূরে দেখে
আমাকে বলেন, ঐ যে মহাপুরুষ কীর্তন করতে করতে
যাচ্ছেন, তাঁহার শরণ লও। তিনি তােমাকে বিপদ থেকে
উদ্ধার করতে পারবেন।

পিতা এই কথা শুনে সেই মহাপুরুষকে নিবেদন
করবার জন্য ভক্তিভাবে বিনয়সহ ভূমিস্পর্শ করে
সেলাম করতে করতে তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন।
পরমহংস পিতাকে প্রশ্ন করেন, ‘কি বাবা ? পিতা
বলিলেন, ‘বাবা, আমরা ছা-পােষা মধ্যবিত্ত লােক,
যা কিছু ঘর বাড়ী খামার আছে প্রতি বৎসর আগুনে
পুড়ে গেলে কি প্রকারে আমরা বাঁচতে পারি ? এইজন্য
আপনার শরণ নিচ্ছি, একটা উপায় দয়া করে করুন’।
এই কথা শুনে পরমহংস জিজ্ঞাসা করলেন, – কোথায়
তােমার ঘর ?’ রাস্তার অনতিদূরে নির্দেশ করিয়া
পিতা বলিলেন, –ঐ খানে, এখনও পােড়ার সব চিহ্ন
রহিয়াছে।

পরমহংস পিতাকে বলিলেন, আচ্ছা চল’। অন্যান্য
লােকজনদের একটু অপেক্ষা করতে বলে নিজে
পিতার সঙ্গে অগ্রসর হতে লাগলেন। বাড়ীর কাছাকাছি
পৌঁছলে তিনি বাবাকে কয়েকটি ফুল আনতে বললেন।
পিতা কয়েকটি ফুল নিয়ে এলে তিনি হাত পেতে
নিলেন ও বললেন, ‘কতটা জায়গা জুড়ে তােমার বাড়ী
খামার যা আগুনে নষ্ট হয়, দেখিয়ে নিয়ে চল’। পিতা
তাঁর কথামত আগে আগে চলতে লাগলেন। পরমহংস
বিড়বিড় করে কি বলে যাচ্ছেন ও মধ্যে মধ্যে এক
একটি ফুল ফেলতে লাগলেন। এইভাবে বাড়ী খামার
প্রদক্ষিণ করে পিতা একস্থানে দাঁড়ালে পরমহংস
জিজ্ঞাসা করলেন সবটা হয়েছে ? পিতা তদুত্তরে
‘আজ্ঞে হয়েছে’ বললেন। এর পর থেকে এযাবৎ আর
আমাদের বাড়ীতে আগুন লাগে নি। এজন্য আমরা
পরমহংস মহাশয়ের নিকট চিরকৃতজ্ঞ।”

( উদ্বোধন’ মাসিক পত্রিকা, অগ্রহায়ণ, ১৩৬২)।

Related News

Also Read