২০০৮ সালে বিশ্বমন্দার প্রভাব কাটানোর আগেই কোভিড পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বিশ্বের দেশগুলি অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া প্রয়াস চালিয়েছিল ।কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার পেছনে নয়া উদারনীতিবাদী নীতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে আর্থিক বৈষম্য বেড়েছে, ধন-সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে কতিপয় মানুষের হাতে ।দারিদ্র ,বেকারি,দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। জীবন জীবিকায় অমানবিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে যেমন, সারা বিশ্বের তাঁর কুপ্রভাব থেকে রেহাই পায়নি আমাদের দেশ ভারত। ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশের সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে ফেলেছে। সামাজিক সংহতি ,মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ,ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার সহ অন্যান্য অধিকারগুলোর উপর একের পর এক আঘাত হেনেছে। দেশের লাভজনক রাষ্ট্রয়াত্ত শিল্প রেল ,ব্যাংক ,বীমাকে বেসরকারিকরণের প্রচেষ্টায় মরিয়া হয়েছে।এদিন ব্যাংক এমপ্লয়েস ফেডারেশন(বেফি)’র অষ্টম সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব দাশগুপ্ত।
এদিন সকালে কাঁথি জনমঙ্গল হলে শহীদ বেদীতে মাল্য দানের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন কমল তোলা। কমল তোলা ,মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল, রণেন মাইতি কে নিয়ে সভাপত মন্ডলী গঠিত হয়। সম্পাদকীয় খসড়া প্রতিবেদন রাখেন রঞ্জিত দাস। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১২৬ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে খসড়া প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করেন ৮ জন ।
উদ্বোধক জয়দেব দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৬৯ সালে ৯ জুলাই ব্যাংক জাতীয়করণ হয়েছিল। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতায় এসে ব্যাংকগুলোকে বেসরকারিকরণের লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে কর্মীর সংকোচ ঘটেছে, মানুষের পরিষেবার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী ১৭৯ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১১১ যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে লজ্জার বিষয়। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে তাই সাধারণ মানুষ দিন দিন ক্রেডিট কালচার এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে অর্থাৎ নিজ ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ভোগ করা। ফলে আগামী দিনে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ডেট ট্রাপের শিকার হতে চলেছে।
সোনার ফসল ফলায় যে, তার দুই বেলা আহার জোটে না আজও প্রাসঙ্গিক হয়ে থেকে গেছে। প্রতিনিয়ত কৃষকের উৎপাদনের উপাদানের দাম বাড়ছে। ফসলের ন্যায্য মূল্য সরকার দিচ্ছে না। ফলে হাজার হাজার কৃষক ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা খাতে অর্থ সংস্থান ২০২০ -২১ অর্থবর্ষে ৫৪১৩০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২০২৩-২৪ সালে ২৮৭১৯৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ২২ লক্ষ কোটি টাকা দেশের বড়লোকরা লোন নিয়ে শোধ করেনি। বিজয় মালিয়া ,নীরব মোদি সহ অনেকেই তার উদাহরণ। সভার সমাপ্তি ভাসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা পিএনবি রাজ্য সম্পাদ শ্রীজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের কর্মচারীদের এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে এ পর্যন্ত ৭৬ টি ধর্মঘট সংগঠিত হয়েছে। মাইনে কেটেছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য কখনো কর্মীরা পিছু পা হয়নি। রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করেছে। শিল্প কারখানা বন্ধ। ঋণের দায়ে জর্জরিত রাজ্য।বেকারের চাকরি নেই, শ্রমিক কাজ হারাচ্ছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে ভরে গেছে। সমাজ একটা অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাটাচ্ছে।সভায় উপস্থিত নেতৃত্ব ছিলেন শক্তি কুলোভী, পুলক ধর ,সুধাংশু রাউৎ প্রমুখ। সম্মেলন শেষে আট জনের উপদেষ্টা মন্ডলী এবং ৩৬ জন কে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি অজয় মণ্ডল,সম্পাদক অনিমেষ গুড়িয়া এবং সুরজ সুর কে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়।





