৭২ তম নিখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করল কাঁথি কো-অপারেটিভ ব্যাংক। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এগরা বিধানসভার বিধায়ক তরুণ মাইতি, প্রাক্তন চেয়ারম্যান শৈলজা কুমার দাস, ডাইরেক্টর ইনচার্জ হরিসাধন দাস অধিকারী, ব্যাংকের পরিচালন কমিটির সদস্য–সদস্যা, কর্মী ও বিভিন্ন গ্রাহকরা। ব্যাংকের সিইও অ্যাপেলো আলি সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া সহজ পরিষেবা—সহজ ঋণ ব্যবস্থা, কৃষি ও ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা, সুরক্ষিত ফিক্সড ও রেকারিং ডিপোজিট স্কিম—এসব ক্ষেত্রে কাঁথি কো-অপারেটিভ ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিযোগী ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রাহকরাও তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যাংকের এই সাফল্যের প্রশংসা করেন।

প্রাক্তন বিধায়ক ও ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শৈলজা কুমার দাস বলেন, “সমবায় ব্যবস্থার মূল শক্তি হচ্ছে এলাকার মানুষ। গ্রামে–মহল্লায় পৌঁছে উন্নয়নের হাত বাড়িয়ে দিতে সমবায়ই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।” in
এদিন ব্যাংক চেয়ারম্যান ও বিধায়ক তরুণ মাইতি জানান, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৬,২০০ সমবায় সমিতি কাজ করছে এবং সরকার সমবায় ব্যবস্থার বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ—বিরোধীরা সমবায়ের উন্নয়ন নিয়ে কথা না বলে অকারণ সমালোচনা করছে।

অন্যদিকে একই দিনে নন্দীগ্রামে সমবায় সপ্তাহ উদযাপন মঞ্চ থেকে ভিন্ন সুর শোনান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “সমবায়ে রাজনীতির কোন স্থান নেই। তবুও তৃণমূল সরকার সমবায় নির্বাচনে চূড়ান্ত হস্তক্ষেপ করছে। বহু স্থানে গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় ঘোষিত হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ১,০০০-এর বেশি সমবায় নির্বাচনের মধ্যে প্রায় ৩০০–তে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ হয়নি, শক্তির জোরে একতরফা ফল ঘোষণা করেছে শাসকদল। এছাড়াও সমবায়ে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।

সমবায় সপ্তাহের মঞ্চেই শাসক-বিরোধীর তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মধ্যেও সাধারণ মানুষের কাছে সমবায় পরিষেবার উন্নতি ও বিস্তারের গুরুত্ব নতুন করে উঠে আসে।





