Select Language

[gtranslate]
৩রা মাঘ, ১৪৩২ শনিবার ( ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ )

নবরাত্রির চতুর্থ দিনে দেবী কুষ্মাণ্ডার আরাধনা হয়

কুষ্মাণ্ডা ‘কু’, ‘উষ্ণ’ এবং ‘অণ্ড’ এই তিনটি ভাগে ‘কুষ্মাণ্ডা’ শব্দটিকে ভাগ করা হয়।’কু’ অর্থাৎ স্বল্প, ‘উষ্ণ’ অর্থাৎ গরম এবং ‘অণ্ড’ অর্থাৎ বিশ্বজগৎকে বোঝানো হয়েছে। দেবী নিজ হাসি এবং হাতের পাত্রের রক্ত দিয়ে সৃষ্টি করেন আলোকিত ব্রহ্মাণ্ড। এই রূপে দেবীর গাত্রবর্ণ সূর্যের কিরোনের মতো উজ্জ্বল। আটিট হাত দেবী কমণ্ডলু, ধনুক, বাণ, পদ্ম, অমৃতকলস, চক্র, গদা এবং জপমালা, ধারণ করেন। অমৃত এখানে ব্রহ্মের রূপক। দেবী অমৃতপূর্ণ কলস অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞানের আধার হাতে নিয়ে বসে রয়েছেন।

যোগ্য সাধক আপন তপোবল ও কৃচ্ছ্রতা দ্বারা মহামায়াকে প্রসন্না করতে পারলে তবেই মা সেই অমৃতভাণ্ডের অমৃতধারায় সাধককে স্নান করিয়ে তৃপ্ত করবেন অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞান প্রদানে কৃতার্থ করবেন। দেবীর সিদ্ধমন্ত্রে মন্ত্রিত জপমালা অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধি দান করতে সমর্থ। ভক্ত তার রুচি অনুযায়ী যা চাইবে, কল্পতরু দেবী সেই অনুসারেই বাঞ্চা পূর্ণ করবেন। যে সিদ্ধি ও সিদ্ধা চাইবেন দেবী তাকে তাই দেবেন, আবার, যে পার্থিব সম্পদে অনীহা প্রকাশ করে অমৃতপূর্ণ কলস অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞান চাইবে, দেবী তাকেও তাই দিয়ে সন্তুষ্ট করবেন। দেবী ত্রিনয়নী ও সিংহবাহিনী। শাস্ত্রে কথিত যে, বলিদানের মধ্যে কুমড়ো বলি মায়ের অধিক প্রিয়। কুমড়োকে সংস্কৃতে ‘কূষ্মাণ্ড’ বলে। তাই কুষ্মাণ্ডপ্রিয় দেবী ‘কুষ্মাণ্ড’ নামে স্তুতা। এছাড়াও আরও একটি সুগভির অর্থ রয়েছে- ‘কুৎসিত উষ্মা সন্তাপস্তাপত্রয় রুপো যস্মিন সংসারে।/স সংসারে অণ্ডে উদর রুপায়াং যস্যাঃ॥ অর্থাৎ সংসারে তাপযুক্ত, ত্রিবিধ তাপে জরজর। সেই সংসারে যিনি ভক্ষণ করেন, তিনিই ‘কুষ্মাণ্ডা’।

 

‘কু’ অর্থাৎ কুৎসিত, উষ্মা সন্তাপত্রয়ে পূর্ণ জগৎ যাঁর অণ্ডে (উদরে) বিদ্যমান, তিনিই ‘কুষ্মাণ্ডা’। ‘অচ্চভুজা’ ছাড়াও দেবীকে ‘কৃষ্ণমাণ্ড’ নামেও ডাকা হয়। মহাপ্রলয়ের পরে যখন সর্বত্র শুধু নিশ্চিদ্র অন্ধকার ছেয়ে রয়েছে, তখন এই ভগবতী দেবী ঈষৎ হাস্য করে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন।তাই ইনিই আদ্যাশক্তি। দেবীর বাসস্থান সৌরমণ্ডলে। ভিন্ন মতে, ভীমা পর্বতেও দেবী নিবাস ।।

Related News

Also Read