প্রদীপ কুমার সিংহ
দীঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২, ৪১ মিনিটে সেই সময় অনুযায়ী পশ্চিমবাংলার প্রতিটি ব্লকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে গীতা পাঠ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে।
বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান হয় বারুইপুর রেল ময়দানে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সভাপতি তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুভাষীশ চক্রবর্তী, দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা আই এম টিটিইসির সভাপতি শক্তি মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মৎস্য ও প্রাণী দপ্তরের কর্মদক্ষ জয়ন্ত ভদ্র সহ বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের দশটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উপাদান সহ অন্যান্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন আজকের দিনটা যুগান্তকারী দিন। দীঘার বুকে জগন্নাথ ধাম প্রতিষ্ঠিত হলো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও তার সহযোগীদের প্রচেষ্টায় এই মন্দির গড়ে উঠেছে। বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে দুপুর ৩, ১৪ মিনিটে পুরী জগন্নাথ মন্দিরের বিশেষ পুরোহিতকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দির উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। দীঘায় সব ধরনের মানুষই উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো বলেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ধর্মের ধোয়ায় দিয়ে মানুষকে তুমি যদি ঘৃনা শেখাও সেই ধর্ম তোমার নয় সেই ধর্ম অসুরের। কারণ যে কোনো ধর্ম অন্যায় বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় অন্যায় বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। ধর্ম দিয়ে বিভেদ করানো বা জাতিভেদ করা যায় না। নিজের ধর্মকে রক্ষা করতে না পারলে অন্য ধর্মকে রক্ষা করা যায় না বাংলা সব ধর্ম মানুষ একে অপরকে দেখে এটাই পশ্চিমবাংলার চিরাচরিত প্রথা।
হাইকোর্টে নির্দেশ অনুযায়ী কাঁথিতে বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা সনাতলী ধর্ম সম্মেলন এর ব্যাপারে সুভাষ চক্রবর্তী বলেন কিছু কিছু লোক আছে নিজের ধর্ম নিজেকেই নিজেই পেটায়। শুভেন্দু নিজেই বলে বেড়াচ্ছেন সনাতন ধর্মী, তাহলে আমরা যেসব লোক আজকে এখানে জড়ো হয়েছি তারা কারা। অন্য ধর্ম আছে সেই ধর্মের আমরা শ্রদ্ধাশীল। ভারতবর্ষে একজন উনচল্লিশ বছর বয়সী ব্যক্তি সনাতন ধর্মী শুধু ভারতবর্ষের নয় সারা বিশ্বকে বলেছিলেন সনাতন ধর্মের কথা। তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তার থেকে বড় কথা আর কেউ বলেনি অতএব কে ছোটখাটো একটি কথা বলল তাই আমাদের ছুটতে হবে এমন কোন মানে নেই। শুভেন্দু অধিকারী কে নাম না করেই আক্রমণ করেন তিনি।
এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে জয়ন্ত ভদ্র সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এখানে সকালবেলা কীর্তন হয়েছে তারপর বাউল গান হয়েছে সারাদিন ধরে এখানে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান চলবে। বন্দীর উদ্বোধন হওয়ার পর এখানে প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়েছে রাত পর্যন্ত চলবে। প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার ভক্তদের বাবার জগন্নাথ ঠাকুরের মহাপ্রসাদ ভোগ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুভাশিস চক্রবর্তী ও জয়ন্ত ভদ্র ভক্তদের বাবার মহা ভোগ প্রসাদ বিতরণ করে।





