বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোলাঘাটে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষে নির্দেশ এসেছে এবং ভবিষ্যতে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং এনআইএ তদন্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “পুলিশের উপর মানুষের ভরসা নেই। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ কমিটিও সে কথা স্বীকার করেছে।” আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, মিলন ঘোষসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শুনানি হয়েছে। হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস সহ প্রায় ৯০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০টি পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছে, বাকি ৮৬০টি পরিবার এই নীতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই এলাকায় শান্তি ফিরে আসুক এবং দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক।”
অন্যদিকে, আজকের শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের কড়া নিন্দা করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, “কলকাতা প্রেস ক্লাব কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হলেও তারা নীরব।”
তিনি আরও বলেন, “এই রাজ্যে এখন সাংবাদিকদের মধ্যে ‘আমরা-ওরা’ বিভাজন তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতারা দাঁড়িয়ে থেকে এই ধরনের আক্রমণে মদত দিচ্ছেন।” সব্যসাচী দত্তের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাঙরের পাওয়ার গ্রিড আন্দোলনেও তাকে ব্যবহার করা হয়েছিল, এমনকি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাতেও।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিক্ষকদের আন্দোলনের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তাতে অনেকেই আহত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, “শিক্ষক সমাজ যদি ভবিষ্যতে আন্দোলনে আমাদের সহযোগিতা চান, তাহলে আমরা যারা বিরোধী দলে রয়েছি, তাদের পাশে থাকব।”





