পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের চালু করা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের দয়ায় প্রাণ বাঁচলো ২৩ জন অসহায় পর্যটকের।নাহলে নতুন ইংরেজী বছর ২০২৬ সালের সূর্যোদয়ের মাত্র ৩-৪ দিন আগেই মাঝ সমুদ্রের সলিল সমাধি ঘটেযেত এতো গুলো মানুষের। শনিবার রাতে মাঝসমুদ্রে কয়েক ঘণ্টা চরম উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর অবশেষে দিঘা উপকূল থানার পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেলেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে লঞ্চে করে জগন্নাথ ধাম দর্শনে আসছিলেন ২৩ জন পর্যটক। শনিবার রাতে দিঘা মোহনা থেকে মিনিট তিরিশেক দূরে থাকাকালীন হঠাৎই সমুদ্রের মধ্যেই লঞ্চটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উত্তাল সমুদ্রের মাঝে লঞ্চটি ভাসতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। চরম আতঙ্কে ভোগেন তাঁরা। উপায় না দেখে যাত্রীরা দ্রুত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ‘হেল্ফ লাইন’ নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্যের আবেদন জানান। খবর পাওয়া মাত্রই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
খবর পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয়ে ওঠে দিঘা মোহনা থানার পুলিশ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুতগতির স্পীড বোড নিয়ে মাঝসমুদ্রে পাড়ি দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, ঘন অন্ধকারে ট্রলারের মধ্যে কার্যত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন পর্যটকেরা! বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় একে একে ২৩ জন পর্যটককেই উদ্ধার করা হয়। রাতেই তাঁদের নিরাপদে দিঘায় আনা সম্ভব হয়।
কাঁথির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) অতীশ বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি জানার পরই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয়। জোনাল ডিএসপি-র (ডিএনটি) তত্ত্বাবধানে স্থানীয় নুলিয়া ও বোট মালিকদের সহযোগিতায় পুলিশের নিজস্ব বোট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। লঞ্চের মাঝি-সহ মোট ২৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সকলেই সুস্থ ও সুরক্ষিত আছেন।”





